কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ দেশের ব্যবসা বাণিজ্য অঙ্গনের তারকা ব্যক্তিত্ব। শুধু সফল উদ্যোক্তাই নন, একজন কৃতী সংগঠক ও শিল্প উদ্যোক্তা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, এফবিসিসিআই এর সাবেক প্রেসিডেন্ট। বেসরকারি খাতের অন্যতম ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তার জন্ম গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানাধীন কুরপালা গ্রামের সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত পরিবারে ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি। পিতা মরহুম কাজী বেলায়েত হোসেন। ছাত্র হিসেবে মেধাবী আকরাম উদ্দীন আহমেদ ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা ডিগ্রি এবং সুইজারল্যান্ড থেকে ১৯৮০ সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্টে উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি ১৯৬৩-৬৪ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজে শিক্ষকতার সাথে সংশ্লিষ্ট হন। ১৯৬৪ সালে পেশার পরিবর্তন ঘটিয়ে চট্টগ্রামের মোহাম্মদী স্টীল মিলসের ম্যানেজার পদে যোগদান করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তথ্য প্রচার বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং এপ্রিল মাসে ভারত যাওয়ার প্রাক্কালে প্রথম সন্তানকে হারান। দুর্বিষহ এই শোক বুকে নিয়ে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধ শেষে তিনি বাংলাদেশ স্টীল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনে যোগ দেন এবং ১৯৮১ সালে জেনারেল ম্যানেজার পদ থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে নিজস্ব শিল্প ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন।
অসাধারণ মেধাবী ব্যক্তিত্ব কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ছাড়াও স্ট্যান্ডার্ড এভিয়েশন লিমিটেড এবং ওনারটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যান। এই দেশখ্যাত উদ্যোক্তা একই সাথে ইস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, ব্ৰাইট স্টীল ওয়্যার রোপ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, ব্ৰাইট ট্রেডার্স ওভারসি) এবং স্ট্যান্ডার্ড আইটি সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর।
সাংগঠনিক দিক থেকেও তিনি বেশ সমুজ্জ্বল। বাংলাদেশ স্প্রিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকস, বিএবি এর সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি চট্টগ্রাম স্টীল রি-রোলিং মিলস ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা, নাসিরাবাদ শিল্প মালিক সমিতির প্রাক্তন সভাপতি, চট্টগ্রাম চেম্বার অব ট্যাক্স অ্যান্ড ভ্যাট কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান, সেন্ট্রাল ডিপোজিটারি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, সিডিবিএল এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক পরিচালক।
কাজী আকরাম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ১৯৬০–৬১ সালে ঢাকা কলেজে ক্লাস প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন । ১৯৬১-৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি এবং সেমিনার সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে সংসদ উপ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি লায়নিজম আন্দোলনের সাথে জড়িত। ১৯৯৩– ৯৪ সালে লায়ন্স ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি-২ এর ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর ছিলেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রেও তিনি অবদান রেখে চলেছেন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ এর রিজেন্ট মেম্বার ও রিজেন্ট ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সিনেট মেম্বার। নিজস্ব অর্থায়নে কোটালীপাড়া শেখ হাসিনা আদর্শ কলেজ এবং শারাবান তহুরা মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি টুঙ্গীপাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিগ্রি কলেজের দাতা সদস্য। কাজী আকরাম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মমতা’র উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান, শতাব্দী গোষ্ঠীর চিফ পেট্ৰিন। বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা সমিতি, চট্টগ্রাম এর সভাপতি এবং ঢাকাস্থ কোটালীপাড়া সমিতির চিফ পেট্ৰিন। চট্টগ্রাম লায়ন্স ক্লাবের ভাইস চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি এবং চট্টগ্রাম শিশু হাসপাতালের আজীবন সদস্য। তিনি সুদীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেডের স্থায়ী সদস্য। একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী হিসেবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃতি ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ১৯৮১ সালে সমাজসেবামূলক কর্মে অবদানের জন্য ইউনেস্কো গোল্ড মেডেল, ১৯৯৩ সালে ন্যাশনাল গোল্ড মেডেল, ১৯৯৪ সালে শহীদ সোহরাওয়াদী ন্যাশনাল গোল্ড মেডেল, ২০০৯ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস হতে গোল্ড ক্যাটাগরিতে ব্যাংকার হিসেবে ওয়ার্ল্ড কোয়ালিট কমিটমেন্ট অ্যাওয়া অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। লায়নিজমে অবদানের জন্য তিনি শেভরন অ্যাওয়ার্ড এবং পজেসিভ মেলভিন জোনস ফেলোসহ অসংখ্য পদক ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তিনি বিপুল সমৰ্থনে দেশের উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মসুবাদে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালিসহ সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিশ্বের ২০টিরও অধিক দেশ সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে চীন, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভুটান সফর করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ভারত সফরে ব্যবসায়ীদের দলনেতা এবং ২০১১ সালে ইউএনএর জেনারেল অ্যাম্বেলির সফরসঙ্গী ছিলেন। সম্প্রতি দেশের আর্থিকখাত সহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।
প্রশ্ন : বাংলাদেশের অর্থনীতির চলমান অগ্রগতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ : আমি জন্মেছি বৃটিশ আমলে। বড় হয়েছি পাকিস্তানে আর এখন দেখছি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা। মানুষ তো সব সময়ই আশাবাদী। কখনো আশা ভঙ্গ হয় না। আমরা উন্নয়নের জন্যে সেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অনেক কষ্ট, অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে এসেছি। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। তারপরেও আমরা এখন ভাল অবস্থানে আছি।
প্রশ্ন : এক সময় বাংলাদেশকে আমেরিকা বলতো তলাবিহীন ঝুঁড়ি?
কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ : সেই কথাই বলছি। আমরা কোথা থেকে কোথায় এসেছি। সেই তলাবিহীন ঝুঁড়ি এখন পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। রপ্তানী যোগ্য পণ্যে আজ আমাদের ঝুঁড়িপূর্ণ। ৭৮৪ কোটি টাকার প্রথম বাজেট থেকে আজকের বাজেট ৫ লক্ষ কোটি টাকার উপরে। আমাদের উন্নয়ন এখন চোখে পড়ার মতো। জিডিপি গ্রোথ সম্পর্কে বলতে হয়- ইকোনমি সম্পর্কে বলতে গেলে জিডিপি গ্রোথ চলে আসে। বাজেটও কিন্তু জিডিপি সাইজের মধ্যে হয়। কিন্তু আমরা এখনো সেই লেভেলে যেতে না পারলেও আমরা এগিয়ে আছি। পাশের দেশের নোবেল লরিয়েট অমর্ত্য সেন সেদিন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উড়ছে। আর এবার ভারতের যিনি নোবেল জিতেছেন তিনিও অমর্ত্য সেনের মতই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মূল্যায়ন করেছেন। তারা বলেছেন, সমাজিক উন্নয়ন সূচকে ও সোশ্যাল সেফটি নেটের দিক দিয়ে আমরা ভারতের চেয়েও এগিয়ে। ওমেন এমপাওয়ারমেন্টের দিক দিয়ে আমরা অনেক এগিয়ে।
প্রশ্ন : ওমেন এমপাওয়ারমেন্টের দিক দিয়ে আমরা এখন বিশ্বে রোল মডেল?
কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ : রোল মডেল বলতে বলতে এখন সত্যিই আমরা রোল মডেল হয়ে গেছি। আর এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না- আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এখন বিশ্বে রোল মডেল। তিনি বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সেদিন দেখলাম- দেখে ভাল লাগলো, ডি এইটের যে সম্মেলন হবে। কোন দেশকে তারা বাছাই করে কখন? সেই দেশের অবস্থা ভাল হলে ডি এইট সেই দেশকে বাছাই করে। আমি লায়ন্স ক্লাবের পরিচালক।

প্রশ্ন : এবং এর ২০০ টিরও বেশি দেশে আপনি ডিরেক্টর?
কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ : ইলেক্টিভ ডিরেক্টর আমি। লায়ন্সে প্রপার ইলেকশন হয় এবং ইলেকশন হয় নাই- এমন নাই। ইলেকশনটা হয়েছে কোথায় জানেন? লাস ভেগাসে। আজকে বাংলাদেশে যে ক্যাসিনোর কথা উঠছে সেই ক্যাসিনোর শ্রেষ্ঠ জায়গা- লাস ভেগাস। সেই জায়গায় আমাদের ইলেকশন হয়েছে। আমি ওয়ার্ল্ডের সেকেন্ড হাইয়েস্ট ভোট পেয়েছি। ৫ ভোটের জন্যে ফার্স্ট হতে পারিনি সারাবিশ্বে। পাকিস্তানকে হারিয়েছি আমি এবং ইন্ডিয়াকে হারিয়েছি।
প্রশ্ন : যারা বড় উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী তারা কি ভাবছেন এখনকার বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে?
কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ : এটা পরিবর্তনশীল। একেক অবস্থায় একেক রকম। ধরেন, একজন যখন সরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকেন তখন তিনি সব কিছু ওই অ্যাঙ্গেল থেকে দেখেন। আবার যিনি প্রাইভেট কোন ব্যাংকের চেয়ারম্যান তিনি আবার অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে দেখেন। কেউ হঠাৎ করে তার কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে তেমন প্রতিযোগিতা নাই কিন্তু প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা আছে। প্রতিযোগিতা শুধু ব্যবসায় না, সেবার দিক দিয়েও। সরকারি ব্যাংকে একটা এসি লাগাতে গেলে ৪/৫ জায়গায় অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু প্রাইভেট ব্যাংকে একটা রুমে দেখা যায় ৩/৪টা একদিনে এসি লাগিয়ে ফেলে। সুতরাং প্রাইভেট ব্যাংক আর সরকারি ব্যাংকের মধ্যে অনেক তফাৎ। আমি প্রাইভেটে চাকরি শুরু করি। একসময় লেকচারার ছিলাম জগন্নাথ কলেজে ৬৪ সালে। আমি ফিজিক্স এবং ম্যাথমেটিক্স দুইটাতেই ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু হলে সিট পাওয়ার জন্যে ম্যাথমেটিক্স শুরু করলাম। পরে যখন সিট হয়ে গেলো আবার ফিজিক্সে চলে গেলাম। সেই যুগে আমি ফিজিক্স ম্যাথমেটিক্স টুইটাতেই ভর্তি হয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বঙ্গবন্ধু একদিন বাসায় গেলে আমাকে বললেন ইংরেজীতে- হোয়াট ইউ আর ডুয়িং নাউ? আমি বললাম- লেকচারার জগন্নাথ কলেজ। তিনি বললেন- হাউ মাচ ইউ গেটিং? আমি বললাম- টু সেভেনটি ফাইভ। তিনি বললেন-গেট মোর। ইউ হ্যাভ টু গো টু চিটাগাং এন্ড বিল্ড ইন্ডাষ্ট্রি। আমি ভাগ্যবান বঙ্গবন্ধুর মত মানুষ আমাকে চিঠি লিখে চাকরি দিয়েছিলেন চট্টগ্রামে। তখন তদানিন্তন পাকিস্তানে একটি মাত্র স্টিল কোম্পানী মোহাম্মদী আয়রন স্টিল। এখন সেটি ইসলামী স্টিল নাম হয়েছে। সেই মালিক এখন নাই। বঙ্গবন্ধু তখন নন বেঙ্গলীর আন্ডারে চাকরি দিয়ে দেন আমাকে। সেই চাকরি এবং তিনি বলে দিলেন। অনেকে আমাকে জিঙ্গেস করেন যে, বঙ্গবন্ধুকে তো আপনি অনেক কাছ থেকে দেখেছেন। বঙ্গবন্ধু দেশের ইকনোমি এবং আমাদের বাঙালিদের ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্পপতি হওয়া কিভাবে চিন্তা করতেন? তখন বলি- আমি তার একটি প্রমাণ। আমাকে যদি ওই সময় বঙ্গবন্ধু না পাঠাতেন তাহলে আমি এতোদিন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষকই থাকতাম।

প্রশ্ন : একজন সফল উদ্যোক্তা আমরা পেতাম না?
কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ : আপনারা পেতেন না। আমার হওয়ার চেষ্টা থাকতো না। বঙ্গবন্ধুর সেই কথা সব সময়ই আমি মনে রেখেছি- কিপিং ইন মাইন্ড দ্যাট আই হ্যাভ টু লিভ দ্যা জব। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ওইখানে আমি প্রডাকশন ম্যানেজার থেকে ফুল ম্যানেজার হই। তখন অনেকে এডমিস্ট্রেটর হয়েছে। আমি এডমিনিস্ট্রেটর হইনি। এই সব ব্যাপারে আর আমি কখনো বঙ্গবন্ধুর কাছে যাইনি। এডমিনিস্ট্রেটর হলে মনে হবে আউট সাইডার। তাই হইনি। আমি প্রডাকশন ম্যানেজার ছিলাম আর জেনারেল ম্যানেজার ছিল পাকিস্তানি কর্নেল শেখ । সে চলে গেলো পাকিস্তানে। মালিকরাও চলে গেলো। আমি ফুল চার্জ নিলাম। কারণ আমি তো পাঠশালা থেকে আসিনি। সুতরাং এতে আমার কোন অসুবিধা ছিল না। লেবারদের সাথে কাজ করেছি রাত দিন মিলিয়ে। তখন ১৩০ জন লেবার ছিল। আমি তাই বললাম- আমি এডমিনিস্ট্রেটর হব না। আমাকে ম্যানেজার করেন। এই সব বলছি কেন? সেখানকার পাকিস্তানিদের আউটলুক- তারা চিন্তা করতো ব্যবসা করবো পয়সাগুলো নিয়ে যাব। কিন্তু আমরা তো তা করিনি? ওই মালিক আমাকে ঢাকা পাঠাতো অগ্রনী ব্যাংকে ১৯৬৪-৬৫ সালে। তখন থেকে আমি ব্যাংকের ভেতরে ঢোকা শুরু করেছি। এই জন্যে আমি বলতে চাই- ওই পাকিস্তান, ওই বৃটিশ, ওই ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছি আমরা। ভাল মন্দ আমরা করবো এবং আমাদের দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। তাই ব্যাংকিং সেক্টরে বলি- বিরাট পরিবর্তন এসেছে। এখন আম এই ১৩ টা ব্যাংক। প্রাইম ব্যাংক আগে ছিল। যখন এই ১৩ টা ব্যাংক করে দিলেন। তখন আইএমএফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলেছিল- এতো ব্যাংক এই দেশে চলতে পারে না। নেত্রী বললেন- নার্থি ডুয়িং আমি দেবো। নেত্রী যদি এই সব দূরদর্শিতা না থাকতো তাহলে আজ দেশের ব্যাংকিং সেক্টর এতো দূরে আসতে পারতো না। যে কাজ করে তারই তো সমালোচনা হয়। যে কাজ করে না তার কোন সমালোচনা হয় না।
প্রশ্ন : তরুণ উদ্যোক্তাদের সফল হতে গেলে কোন বিষয়ের প্রতি জোর দিতে হবে?
কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ : আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট এর বেশির ভাগই তরুণ। এই ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট ছিল পাকিস্তান আমলে। তখন আমরা যুবক ছিলাম। যুবকরা সঠিক পথে চললে দেশ শক্তিশালী হয়। আর এই সময়ই রেভ্যুলেশন হয়। সেই রেভ্যুলেশন আর্থিকভাবে শক্তিশালী বা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হতে পারে। তখন করেছিলাম দেশ স্বাধীনের জন্যে আর এখন হচ্ছে শিল্প বিপ্লব। এই অর্থনৈতিক রেভ্যুলেশনের জন্যে অপেক্ষা করছি এবং সেই রেভ্যুলেশন হবে। বঙ্গবন্ধু ওই সময় সবাইকে তো হুকুম করতো না। আমার মত কাছের একজনকে তিনি বলে গেছেন একটি কথা- তুমি ইন্ডাস্ট্রি করবে। ওই সময় বেশিরভাগই ক্লারিক্যাল চাকরি করতো। শিল্পপতি ছিল না তখন। যার উপর তার অধিকার ছিল তাকে এই কথা বলে গেছেন। এর অর্থ পুরো জাতিকে এই কথা তিনি বলে গেছেন। শিল্প না হলে কিছু হবে না। তিনি তা বুঝেছিলেন। আর তাই বাংলাদেশ এখন কোথায় উঠে গেছে। আগে বিদেশে গেলে বলতাম তোমাদের দেশ থেকে কোন ইনভেস্ট করা যায় কিনা? আর এখন বিদেশ গেলে উল্টো আমাদেরকে ইনভেস্ট করতে বলে তাদের দেশে। বিদেশে আগে গেলে বলতো- ও বাংলাদেশ? আমি প্রথম ওমরা করতে যাই ১৯৮০ সালে। আরেকবার সুইজারল্যান্ডে গেলাম ট্রেনিং করতে স্বাধীনতার পরে। প্রথম গিয়েছিলাম ১৯৮৩ সালে অক্সফোর্ডে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টের উপরে ডিপ্লোমা করতে। তখন সুইজারল্যান্ডে যেতাম শিখতে- আমাদের দেশে কি করা যায়? আর এখন এই অবস্থা বদলে গেছে। তারা আসে আমাদের কাছে শিখতে। আর আরব দেশের মানুষরা আমাদেরকে বলতো কুল্লু মিসকিন অর্থ্যাৎ সব গরীবের দেশ। ১৯৮০ সালে ওমরা করতে গিয়ে কুল্লু মিসকিন শুনে এসেছি। এখন সেই আরবরা আমাদের বলছে-ইকনোমিক রেভ্যুলেশন এসেছে আমাদের, যা বিস্ময়কর এবং এই ভেল্যুলেশন কিভাবে ইনভেস্ট করা যায় সেই পথ তারা খুঁজছে। এই পরিবর্তনের শুরু করে দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। আমি কালকেও একজনকে বলেছি- বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে দেশ দিয়ে গেছেন। আর তার আর্শিবাদ হিসেবে দুই কন্যাকে রেখে গেছেন আমাদের জন্যে। শেখ হাসিনা সব কিছু জানেন। আমরা ব্যাংকিং সেক্টরে যা না বুঝি তা দেখি তিনি বলেন। কালকে যেমন বলেছেন- সৎভাবে ব্যবসা করেন কোন সমস্যা নাই।








