গত এক সপ্তাহেই মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ১৮ হাজারের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে চলে এসেছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, বৃহস্পতিবার পুলিশ ও সেনাচৌকিতে হামলা এবং পাল্টা হামলায় সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে ও দু’পক্ষের সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানে ঠিক কত মানুষ মিয়ানমার-বাংলাদেশ মধ্যবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে তার ঠিকঠাক বলা কঠিন।
তবে কয়েক হাজার মানুষ সেখানে আটকা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে আইওএম।
মিয়ানমারে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও সেনা চৌকিতে কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হামলা এবং জবাবে সেনাবাহিনীর বিস্তৃত পাল্টা হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে শতাধিক ছাড়িয়েছে।
মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, ‘আরাকান রোহিঙ্গা সালভ্যাশন আর্মি (আরসা)’ নামে মুসলিম রোহিঙ্গা জঙ্গিদের একটি বিশাল দল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের ৩০টি পুলিশ ও সেনা চৌকিতে পরিকল্পিত হামলা চালায়।
বুধবারই কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে চার রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। বুধবার সকালে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে দু’জন নারী ও দু’জন শিশু।
মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা ডুবির ঘটনায় ঘটে।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গুলি করা ছাড়াও তাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। স্যাটেলাইটে এ চিত্র দেখা গেছে বলে দাবি করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। রাখাইন রাজ্যর ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আগুন দিয়ে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানায় বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠন।
এই ঘটনার পর প্রায় তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে ওই সংগঠন ধারণা প্রকাশ করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দেয়া তথ্য মতে, রাখাইন রাজ্যের প্রায় দশটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় দেশটির সেনাবাহিনী এ হামলা চালায়।
মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার এবং পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর। সেই সঙ্গে জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীদের রাখাইন রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জেনেভায় সংস্থাটির এক মুখপাত্র বিবৃতিতে ওই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিতের মধ্যমেই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:








