ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউয়ের আবেদন করতে হবে। যা আজ ৬ জুন থেকে শুরু হলো।
রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং তাতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় মীর কাশেম আলীকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ পাবেন তিনি। রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফাঁসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া অপরাধীরা:
মতিউর রহমান নিজামী
শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় দেন। তার বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের বিরুদ্ধে নিজামীর আপিলের রায় ঘোষণা হয় ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি। পরে চলতি বছরের ৯ মে নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেওয়া আদেশের ২২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হয়।
এতে বলা হয়, নৃশংস ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের জন্য আসামির একমাত্র সাজা মৃত্যুদণ্ড। এই পরিস্থিতিতে সাজা কমানোর সুযোগ নেই। ১১ মে একাত্তরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, কুখ্যাত আলবদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কামারুজ্জামান
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কুখ্যাত গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংগঠক মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখেন ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর। পরে রায় পুনর্বিবেচনার(রিভিউ) আবেদন হলে ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল তা খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর ১১ এপ্রিল শনিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আপিল বিভাগের রায়ের পর ৬ মাস ৮ দিন পর কার্যকর হয় তার ফাঁসির রায়।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখেন ২৯ জুলাই, ২০১৫। এরপর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন হলে ১৮ নভেম্বর তা খারিজ হয়। পরে ২২ নভেম্বর রাতে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। আপিল বিভাগের রায়ের পর তিন মাস ২৩ দিন পর ফাঁসি কার্যকর হয় তার।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখেন ১৬ জুন, ২০১৫। তিনি রিভিউ আবেদন করলে ১৮ নভেম্বর তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে ২২ নভেম্বর রাতে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। আপিল বিভাগের রায়ের পাঁচ মাস ছয় দিন পর তার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
কাদের মোল্লা
মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের কর্মের জন্য ‘কসাই কাদের’ নামে পরিচিতি পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। আপিল বিভাগের রায়ের দুই মাস ২৫ দিন পর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তবে সেসময় আইনে রিভিউয়ের সুযোগ না থাকলেও তিনি রিভিউ আবেদন করেছিলেন। ওই রিভিউ আবেদন বাতিল হওয়ার পরই কার্যকর হয় তার ফাঁসি।








