প্রথম রাউন্ডেই জমে ওঠা জাতীয় ক্রিকেট লিগের নতুন মৌসুমের প্রথম রাউন্ডে জয় পেয়েছে টায়ার-২ এর দুই দল ঢাকা মেট্রো ও ঢাকা বিভাগ। আর টায়ার-১ এর দুই ম্যাচই ড্রয়ে সমাপ্তি দেখেছে।
প্রথম রাউন্ডে আলো কেড়েছেন তুষার ইমরান। নতুন মৌসুম শুরুর দিনেই সেঞ্চুরি তুলে নেয়া তুষার দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরির দেখা পান। আরিফুল হক দ্বিতীয় দিনে দ্বিশতক ছোঁয়ার পরেরদিন রনি তালুকদার পা রাখেন ডাবল সেঞ্চুরিতে।
দুই ডাবলের রাউন্ডে মোট সেঞ্চুরি এসেছে ১৩টি। আর পাঁচ বা ততোধিক উইকেটের দেখা পেয়েছেন ৬জন বোলার।
খুলনা-রাজশাহী
(ম্যাচ ড্র, ম্যাচসেরা: তুষার ইমরান, রাজশাহী)
রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে টায়ার-১ এর ম্যাচে খুলনা বিভাগ প্রথম দিনে গুটিয়ে যায় ২১০ রানে। তুষার ১০৪ রান করেন।
রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে থামে ৫৫২ রানে। লিড নেয় ৩৪২ রানের। নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৬, মিজানুর রহমান ১১৫, ফারহাদ হোসেনের ৮৩ রানের পর জহুরুল ইসলাম খেলেন অপরাজিত ১৬৩ রানের ইনিংস।
খুলনার হয়ে আফিফ হোসেন ধ্রুব ৬৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে স্পিনভেল্কি দেখান।
রাজশাহীর ছুঁড়ে দেয়া বড় লক্ষ্যের পর ৫৩ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেটে ১৮২ রানে তৃতীয় দিন শেষ করেছে খুলনা। তুষার ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। এনামুল হক বিজয় অপরাজিত থাকেন ৭২ রানে।
শেষদিনে তুষার সেঞ্চুরিকে দেড়শর ওপারে টেনে নিয়ে ১৫৯ রানে থামেন। এনামুল সাজঘরে ফেরেন ১১৩ রানে। তবে কাজের কাজটা করেছেন সৌম্য সরকার। ফর্মের সঙ্গে লড়তে থাকা এ বাঁহাতি শতক তুলে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ১৪৭ রানের ইনিংস তার।
রংপুর-বরিশাল
(ম্যাচ ড্র, ম্যাচসেরা: আরিফুল হক, রংপুর)
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টায়ার-১ এর আরেক ম্যাচে রংপুর প্রথম ইনিংসে তোলে ৫০২ রান। জাহিদ জাবেদ ৬২, নাঈম ইসলাম ৯২ ও আরিফুল হকের ক্যারিয়ার সেরা ২৩১ রানে বড় সংগ্রহ গড়ে উত্তরবঙ্গের দলটি।
বরিশালের হয়ে সোহাগ গাজী ও মনির ৩টি করে উইকেট নেন।
বরিশাল বিভাগ ৫ উইকেটে ৩৮৪ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করে। ফজলে রাব্বি অপরাজিত থাকেন ১৩০ রানে। সোহাগ গাজী ১২৮ রানে সাজঘরে ফিরে যান।
শেষদিনে রাব্বি ইনিংস টেনে নেন ১৯৫ পর্যন্ত। পাঁচ রানের জন্য দ্বিশতক হাতছাড়ার হতাশা তার! এছাড়া রাফসান করেছেন ৫৯ রান। বরিশাল ৪৫৮ রানে অলআউট হয় নিজেদের প্রথম ইনিংসে।
দ্বিতীয় ইনিংসে রংপুর ২ উইকেটে ১৬৪ রান তোলার পর ম্যাচে ড্রয়ে সমাপ্তি আসে। এরমাঝেই নাঈম ইসলাম সেঞ্চুরি তুলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেয়া লিমন অপরাজিত থাকেন ৫৩ রানে।
ঢাকা মেট্রো-সিলেট
(মেট্রো ইনিংস ও ৪১ রানে জয়ী, ম্যাচসেরা: সাদমান ইসলাম, মেট্রো)
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টায়ার-২ এর ম্যাচে প্রথম দিনে রানবন্যার ইঙ্গিত দিয়ে ঢাকা মেট্রো দ্বিতীয় দিনে গুটিয়ে যায় ৪২৬ রানে। সৈকত ৪২, সাদমান ইসলাম ১৫৭, মার্শাল আইয়ুব ৫০ ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ৫৩ রানে এই সংগ্রহ পায় দলটি।
সিলেটের হয়ে এনামুল হক জুনিয়র ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সেরা। পরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ২১৫ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট। এনামুল জুনিয়র ৯১ রান করেন। মেট্রোর হয়ে আরাফাত সানি নেন ৪ উইকেট।
সিলেট পরে ফলোঅন করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৪৯ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করে। জাকির ৭২ রানে ফিরে যান। রাজিন সালেহ ফিফটি তুলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষদিনে গুটিয়ে যাওয়ার সময় কেবল ১৭০ পর্যন্তই যেতে পারে সিলেট। সালেহ ৬০ রানে থামেন। আসিফ ৪৪ রানে ৫টি, সানি ৬৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে মেট্রোর জয় ত্বরান্বিত করেছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম
(ঢাকা ২১৪ রানে জয়ী, ম্যাচসেরা: রনি তালুকদার)
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে টায়ার-২ এর আরেক ম্যাচে ঢাকা বিভাগ প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রান তুলে গুটিয়ে যায়। জুবায়ের হোসেন লিখন চট্টগ্রামের হয়ে ৫ উইকেট নেন।
চট্টগ্রাম বিভাগ পরে নিজেদের প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ১৪২ রানে। শাহাদাত ঢাকার হয়ে ৪ উইকেট নিয়ে সেরা।
ঢাকা দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে উদ্বোধনীতে ১৭৬ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করে। প্রথম ইনিংসে ৫৯ করা রনি তালুকদার ১০০ করে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিনে ক্রিজে আসেন। আরেক ওপেনার আব্দুল মাজিদ ছিলেন ৬৬ রানে অপরাজিত।
তৃতীয় দিনে দুজনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি গড়েন। বুধবার তারা বিচ্ছিন্ন হন ৩৫০ রানে। মজিদ ১৩২ রানে ফিরলে ভাঙ্গে জুটি। রনি তালুকদারকে ফেরাতে পারেনি চট্টগ্রামের বোলাররা। ইনিংস ঘোষণার সময় রনি অপরাজিত থাকেন ২২৮ রানে। তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি ১৮ চার ও ৭ ছক্কায় সাজানো।
ঢাকা ১ উইকেটে ৩৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮২ রানের লক্ষ্যে নেমে ৩ উইকেটে ১৩৫ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল চট্টগ্রাম। শেষদিনে তারা গুটিয়ে যায় ২৬৭ রানে। মুমিনুল ৬২, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৬০ রান করেন।
ঢাকার হয়ে নাজমুল ইসলাম ৫টি ও শাহাদাত হোসেন ৪টি করে উইকেট নেন।








