ব্রিটিশ রাজপরিবারে আবারো ঝড়। প্রিন্স হ্যারি এবং ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলের তাদের বর্তমান পদ থেকে দূরে সরে যাওয়ার খবরে বেশ হতাশ রাজপরিবারের বড় সদস্যরা।
বিবিসির রয়্যাল করেসপন্ডেন্ট জনি ডিমন্ড বলেন, প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান আগে রানী বা রাজপরিবারের কাউকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।
যদিও তাদের ভবিষ্যতের ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে অনেক আগেই। তারপরও বাকিংহাম প্যালেস এই বিষয়ে পুরোপুরি চোখ বন্ধ করে ছিল। প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরো কিছু জটিল বিষয় ছিল আলোচনার জন্য।
বেশ কয়েক মাস ধরে নিজেদের মধ্যেকার আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছে হ্যারি ও মেগান। যুক্তরাজ্য ও নর্থ আমেরিকার মধ্যে সময় ভাগ করার পরিকল্পনা করছেন তারা। সঙ্গে রানী, কমনওয়েলথ এবং পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি দায়িত্বের প্রতিও সম্মান জানিয়েছেন।
এই ভৌগলিক সমতা থাকায় নিজেদের সন্তানকে রাজ ঐতিহ্যর প্রতি সমর্থন নিয়ে বড় করতে সম্মত হবে এবং একই সঙ্গে পরিবারটিকে পরবর্তী অধ্যায়ে মনোযোগ দিতেও যথেষ্ট সুযোগ দিবে বলে মন্তব্য এই জুটির।
তবে তারা কিভাবে তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করবেন, সেটা এখনো জানা যায়নি। এখন বড় ভাবনা নিরাপত্তা নিয়েই। সেটা দেবে কে?
নতুন এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া চিড়টা বেশ স্পষ্ট। সেখানে একদিকে রয়েছে হ্যারি ও মেগান আর অন্যদিকে বাকি পুরো রাজপরিবার।
এই ঘটনায় এখন উত্তরের থেকে প্রশ্ন বেশি। তাদের নতুন কাজ কী হবে? তারা কোথায় বাস করবেন এবং সেটার ব্যয়ভার কে দেবে? রাজ পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী হবে?
রাজকীয় জীবন নিয়ে যে এই জুটি খুশি ছিলেন না তা বোঝা যাচ্ছিলো কয়েক মাস ধরেই। এমনটাই বলেন বিবিসির রয়্যাল এডিটর নিকোলাস উইসেল।
গত বছরের অক্টোবরে, ডাচেস অব সাসেক্স মেইল অন সানডের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই শুরু করেন এই অভিযোগে যে সেখানে তার একটি ব্যক্তিগত চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। সে সময়ে প্রিন্স হ্যারি বলেছিলেন, ‘‘নির্মম প্রচার ও নিরলস প্রপাগান্ডার পরে তার স্ত্রী ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড প্রেসের শিকার।’’
তিনি আরো বলেন, ‘যদিও আমরা সাহসের সঙ্গে এগিয়েছি। তারপরও সেটা কতটা কঠিন ছিল তা বর্ণনা করা সম্ভব না।’
এরপর আইটিভির একটি ডকুমেন্টারিতে মেগান খবরের কাগজের ক্রমাগত আগ্রহ পেরিয়ে মাতৃত্বকে একটি ‘সংগ্রাম’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, কিন্তু কেউই জানতে চাইনি, আমি ঠিক আছি কিনা।
এখন থেকে গণমাধ্যমে অবস্থান বিষয়েও নতুন নিয়ম মানবেন এই জুটি। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নতুন নীতি অনুযায়ী তারা তৃণমূলের কিছু গণমাধ্যম এবং কিছু তরুণ ও উঠতি সাংবাদিকদের সঙ্গেই শুধু সংযোগে থাকবেন।
প্রিন্স চার্লস, প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার তিন সন্তানের পরে ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের ষষ্ঠ উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারি।








