চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগে ৩-০ গোলের বড় জয়ের কারণে দ্বিতীয় লেগে বায়ার্নের কাছে ২-৩ গোলে হেরেও ইউরোপ সেরার আসরের ফাইনালে পৌছে গেল বার্সেলোনা।বায়ার্নের হয়ে গোল করেন বেনাতিয়া, লেভানডফস্কি ও মুলার আর বার্সেলোনার দুটি গোলই আসে নেইমারের পা থেকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে এগিয়ে থেকে বার্লিন ফাইনাল নিশ্চিত হলো কাতালায়নদের।
নিজের আঙ্গিনা আলিয়াঞ্জ-এরিনায় বায়ার্ন যে কতেটা ভঙ্কর হয়ে উঠতে পারে তা আগেই ধারণা করতে পেরেছিলেন লিওনেল মেসি। তাইতো ন্যু ক্যাম্পে ৩-০ ব্যাবধানে জিতেও বলেছিলেন, আমরা এখনও ফাইনালে পৌছাইনি। এখনও এক লেগ বাকি আছে। ওরা নিজেদের মাঠে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
তবে প্রথমে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটি এসেছিল বার্সেলোনার সামনেই। রেকিটিচের শট বায়ার্নের জাল খুজে পেতে ব্যর্থ না হলে ৪ মিনিটেই লিড পেতে পারতো সফরকারিরা। নেইমারের বাড়ানো বল ডি-বক্সের ভেতর থেকে গোল মুখে শট নেন রেকেটিচ। তবে বাধা সেই ন্যায়ার।
৭ মিনিটে স্বাগতিকদের প্রথম উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন মেধি বেনাতিয়া। জাভি আলনাসোর কর্নার থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের প্রথম গোল করেন বাভারিয়ান এ ডিফেন্ডার।
গোল শোধ করতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সাকে। ৮ মিনিট পরই বায়ার্নের জালে বল জড়ান নেইমার। মাঝ মাঠ থেকে মেসির বাড়ানো বল পান সুয়ারেজ। তা আলতো ছোঁয়ায় বায়ার্নের জালে জড়ান ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সেনসেশন।
১৯ মিনিটে আবারও এগিয়ে যেতে পারতো স্বাগতিকরা। তবে এ যাত্রায় মুলারের হেড দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন বার্সা গোল রক্ষক স্টেগেন।
দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছিল মেসির সামনে। ২৮ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর নেইমারের কাছ থেকে বল পান মেসি। তবে এ যাত্রায় ব্যর্থ ম্যাজিশিয়ান।
কিন্তু পরের মিনিটেই গোল। সুয়ারেজ মাঝ মাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে গিয়ে বল দেন নেইমারকে। দ্বিতীয় বারের মতো বাভারিয়ানদের হতাশায় ডুবিয়ে নেইমারের দ্বিতীয় গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।
৩৮ মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত বায়ার্ন, তবে এবারও বাধা স্টেগেন। শোয়েনস্টাইগারের নেওয়া হেড দারুণ দক্ষতায় ফেরন তিনি।
এর পরের মিনিটেই লেভানডফস্কির নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন আলভারেজ। লেভানোডস্কির নেওয়া শট আলভারেজের হাত ফসকে প্রায় গোল লাইন অতিক্রম করছিলো, কিন্তু দারুণ ক্ষিপ্রতায় ফেরান স্টেগেন।
তবে ৫৯ মিনিটে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান লেভানোডফস্কি। ডি-বক্সের ভেতর থেকে মাশচেরানোকে কাটিয়ে কাতালায়ন জালে বল জড়ান তিনি।
৭৩ মিনিটে বায়ার্নকে লিড এনে দেন মুলার। ডি-বক্সের ভেতর থেকে মুলারের নেওয়া শট বার্সার জালে জায়গা করে নিলে লিড পায় বাভারিয়ানরা। স্কোর লাইন দাঁড়ায় ৩-২।
ম্যাচের শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোল না পেলে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন মিউনিখ। তবে প্রথম লেগের ০-৩ গোলের পরাজয়ে সেমি ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় বাভারিয়ানদের।
দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে রিয়াল ও জুভেন্টাসের মধ্যে বিজয়ী দল বার্লিন ফাইনালে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনার।







