রাজধানীর মতিঝিলে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে তাণ্ডবের চার বছর পূর্ণ হচ্ছে শুক্রবার। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৮৩টি মামলা হলেও মাত্র ১৫টি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাকি ৬৮টি মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারায় তদন্তের বিলম্ব হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, ৮৩টি মামলার মধ্যে রাজধানী ঢাকার কলাবাগান থানায় দুটি, রমনায় একটি, শেরেবাংলা নগর থানায় একটি, বাগেরহাটে ছয়টি, নারায়ণগঞ্জে পাঁচটিসহ মোট ১৫টি মামলায় ২০১৪ সালে হেফাজতে ইসলাম, জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আসামী করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
এরপর হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি ওয়াক্কাস, বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ৮৮ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। অবশ্য পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।
হেফাজতের তাণ্ডবের মামলার অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: তদন্ত চলমান রয়েছে, তা স্বাভাবিক নিয়মেই হচ্ছে ।
হেফাজতের তাণ্ডবের চার বছর হতে চলছে এর মধ্যে ৮৩টি মামলায় এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫টি চার্জশিট পুলিশ দিতে পেরেছে , হেফাজতের তদন্ত নিয়ে কি পুলিশের আগ্রহ কমে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সহেলী ফেরদৌস বলেন: অনেক সময় কোর্টে সাক্ষ্য প্রমাণ পেতে দেরি হয়, ফলে পুলিশেরও চার্জশিট করতে বিলম্ব হয়। অনেক জায়গায় কোর্ট দ্রুত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়ায় পুলিশও দ্রুত চার্জশিট দিতে পেরেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারায় আদালতে চার্জশিট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন: সমাবেশকে কেন্দ্র করে নাশকতার পর যে মামলা হয়েছে, তাতে শত শত মানুষের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এর তদন্ত জটিল।
“এ কারণে মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তদন্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এর নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে।”
তবে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার কারণেই মামলাগুলোর দিকেও তেমন তদারকি নেই সরকারের।
বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন: সরকার হেফাজতে ইসলাম বা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে কোনো আপোস করেনি। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে। সরকারেও এর বাইরে কিছু ভাবার সুযোগ নেই।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টির পর কথিত নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে হঠাৎ জেগে ওঠে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওই বছরের ৫ মে ঢাকার ৬টি প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচি শেষে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে সরকারের উচ্চমহলে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে তারা।
৫ মে মতিঝিলে অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। ওই সময়ের সংঘর্ষ ও সহিংসতায় রাজধানীসহ সারাদেশে মোট ২৭ জন নিহত ও দেড় হাজারের মতো মানুষ আহত হয়। পরে ওইদিন মধ্যরাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানের মুখে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় হেফাজত কর্মীরা।







