সিলেটের রাতারগুলের সৌন্দর্য্য উপভোগের আগেই যাত্রা পথে রাস্তার দুপাশের সৌন্দর্য্যে মোহিত করে সবাইকে। বিশাল জলাভূমির মধ্যে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি গাছের এ জঙ্গলই রাতারগুল। তবে নানা কারণে হুমকির মুখে রাতারগুল বনের উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল।
এ বনের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির পাখি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে কাঠবিড়ালি, বানর ইত্যাদি। নানান প্রজাতির সাপেরও অভায়াশ্রম এ বন। ভেতরের দিকে জঙ্গলের গভীরতা এত বেশি যে, সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে জল ছুঁতে পারে না। স্থানীয়দের অধিকাংশের জীবিকা নির্ভরশীল এ বনের ওপর।
স্থানীয়রা বলেন, শুক্র শনিবারে লোকজন বেশী আসে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০টি নৌকা যায়।
তবে স্থানীয় জনগৌষ্ঠীর বনজ সম্পদের উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তন, ধারণ ক্ষমতার অধিক সংখ্যক পর্যটকের আগমন ইত্যাদি কারণে রাতারগুল বনের উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল হুমকির মুখে।
এ অবস্থায় চলতি বছরের ৩১ মে রাতারগুলকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বন রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
সিলেট বনবিভাগের সহকারী বন রক্ষক রাজেশ চাকমা বলেন, জনগনের সহযোগীতা নিয়ে আমরা একটা কমিটি করছি। বনটা ভবিষ্যতে আরো কিভাবে সুন্দর করা যায় এ পরিকল্পনা আমাদের আছে।
সিলেট, মৌলভিবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদী-হাওড়-বাওড়, বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি বাংলাদেশের এক অমুল্য সৌন্দর্য্য। অপরূপ ওই সৌন্দর্য্য রক্ষায় বদ্ধপরিকর সরকার।
চিরসবুজ এ বনে প্রধান প্রধান প্রজাতি হচ্ছে হিজল, করচ, জারুল, বরুন, ডালাডুমুর, বেত ইকরা, খাগড়া, নল, মূর্তা, ছন ইত্যাদি। পর্যটকদের কাছে এ বন পরিচিত দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে।







