ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লিভাপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ড। এই মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জুটেছে দেশটির প্রথমসারির পত্রিকা ‘সান’-এর সাংবাদিকদের। শুধু তাই নয়, অলরেডসদের ট্রেনিং কমপ্লেক্স মেলউডেও প্রবেশে অনুমতি থাকছে না ওই পত্রিকার কোনো প্রতিনিধির। ‘হিলসবোরো ট্র্যাজেডি’র পর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের জেরে এই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হলো সান-কর্মীদের।
১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল শেফিল্ডের হিলসবোরো স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমিফাইনালে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে খেলছিল লিভারপুল। ম্যাচ চলাকালীন একটি দুর্ঘটনায় ৯৬ জন লিভারপুল সমর্থক পদদলিত হয়ে নিহত হন। আহত জন ৭৬৬ জন। সেই দুর্ঘটনা ‘হিলসবোরো ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত।
দুর্ঘটনায় হতাহতের পর লিভারপুলের সমর্থকদের প্রতি আঙুল তুলে সংবাদ প্রকাশ করেছিল সান। পত্রিকাটিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দুর্ঘটনাটি লিভারপুল সমর্থকদের নিজেদের তৈরিকৃত। সমর্থকরা ছিলেন উচ্ছৃঙ্খল। তারা পুলিশের ওপর মূত্র ত্যাগ করেছিলেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার দাবিও করেছিল সান।

বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন নিহতদের স্বজনরা। মামলা ঠুকে দেন আদালতে। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ আদালত দুর্ঘটনার জন্য পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করে রায় প্রকাশ করে। এরপর থেকে নিহতের স্বজনদের দাবি ছিল, অন্যফিল্ডে নিষিদ্ধ করা হোক সান-কর্মীদের। সেই ঘটনার ২৮ বছর পর হলেও লিভারপুল কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজনদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েছে। এতেই কপাল পুড়ল সানের! শনিবার লিভারপুল সমর্থক গোষ্ঠী ‘ইক্লিপস অব দ্যা সান’ একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছে, ‘লিভারপুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর আপনাদের আনন্দের সাথে জানাচ্ছি- এখন থেকে লিভারপুলের ত্রিসীমানায় সানের কোন সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন না।’
অন্যদিকে সান কর্তৃপক্ষও এই পদক্ষেপের জন্য লিভারপুলের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কোনো অবনতি হবে না বলে জানিয়েছেন। ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্বজনদের পাশে থাকার কথাও বলেছেন পত্রিকাটির দায়িত্বশীলরা।








