হিউ জ্যাকম্যান নামের চাইতে ‘উলভারিন’ হিসেবেই তার পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অভিনয় করেন মার্ভেল কমিকসের জনপ্রিয় এই সুপার হিরোর চরিত্রে। যার জন্ম অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে, ১৯৬৮ সালের ১২ অক্টোবর। ছোটবেলা থেকেই বড্ড বেশি ডানপিটে ছিলেন জ্যাকম্যান। স্কুল ফাঁকি দিয়ে সমুদ্র সৈকতে সারা দিন কাটিয়ে দিতেন। আর হতে চেয়েছিলেন বিমানের বাবুর্চি।
সিডনির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে মনোনিবেশ করেছিলেন ‘নাটকে’। আবার পড়াশুনা শুরু করেছিলেন নাটক নিয়েই এরইমধ্যে একদিন ডাক আসে সিনেমায় অভিনয়ের। এরপর খ্যাতি আর সম্মান নেহাতেই কম জোটেনি তার কপালে! জন্মদিনে জ্যাকম্যান অভিনীত জনপ্রিয় তিন সিনেমা সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন এখানে:
লোগান (২০১৭):
লোগানকে নিঃসন্দেহে হিউ জ্যাকম্যানের শ্রেষ্ঠ কাজ বলে স্বীকৃতি দেয়া যায়। প্রচলিত অন্যান্য সুপার হিরোর চেয়ে বেশ খানিকটা স্বতন্ত্র এই লোগান। বিশ্বব্যাপী লোগানের তুমুল জনপ্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছে জ্যাকম্যানের দুর্দান্ত অভিনয়। এই সুপার হিরো বেশ ক্লান্ত ও বিধস্ত। সাধারণ নিরীহ মানুষকে বাঁচিয়ে পৃথিবীকে রক্ষা করার মতো ব্যাপার তার তেমন নেই।

ছবির কাহিনীতে দেখা যায় ২০২৯ সাল। পৃথিবীতে গত ২৫ বছরে আর নতুন কোন মিউট্যান্টদের জন্ম হয় নি । যারা টিকে আছে তারাও বিলুপ্তির দিকেই ঝুঁকছে। আর তাদেরই একজন হলেন লোগান। লুকিয়ে থাকেন পরিত্যাক্ত এক কারখানায় । তার সাথে আছেন প্রফেসর চার্লস এক্সেভিয়ার ও ক্যালিবান। পরিচালক জেমস ম্যানগোল্ড অনেকটা মানবিক করে সাজিয়েছেন এই সুপার হিরোকে। আর সুপার হিরোর এই মানবিক গুণেই মুগ্ধ সবাই।
দ্য উলভারিন (২০১৩):
দ্য উলভারিন ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৩ সালে। এ ছবিতেও দারুণ রকম সফল হিউ জ্যাকম্যান। এর আগের ছবিগুলোতে উলভারিনকে দেখা বেশ শক্তিমান এক সুপার হিরোর বেশে। কিন্তু দ্য উলভারিনে তিনি নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষের কাতারে।

একজন সুপার হিরো হয়েও উলভারিন মৃত্যু ভয়ে ভীত। তার একজন ভালোবাসার মানুষ আছে । এবং তিনি সেই ভালোবাসাকে হারিয়ে কষ্টে কাতরাতে থাকেন। এই ছবিতেই দেখা যায় উলভারিনের ভালোবাসায় ভরা কোমল একটা মন আছে।
দ্য এক্সম্যান (২০০০):
এক্সম্যান সিরিজের প্রথম ছবিটি মুক্তি পায় ২০০০ সালে। হিউ জ্যাকম্যানের আজকের যে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তার শুরুটা এখান থেকেই। পোল্যান্ডের ভূমি তখন দখল করে আছে জার্মান নাজি বাহিনী। সেখানকার ১৪ বছরের এক যুবক এরলিক আলাদা হয়ে যায় তার বাবা-মা থেকে।

এর পর সে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে তাদের। ঠিক এই সময়ই সে হঠাৎ আবিস্কার করে তার অস্বাভাবিক ক্ষমতা। মিউট্যান্টদের মতো সে ক্ষমতা। গোটা বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলে এ ছবিটি। আয় করে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।








