প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক ডকট্রিন নিয়ে গবেষণা করছেন মুহাম্মদ ইমাম হোসেন। ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওলোতে মাস্টার্স থিসিস হিসেবে তিনি এই গবেষণা করছেন। তার থিসিসের বিষয়- ‘হাসিনোমিক্স: বাংলাদেশ একটি উন্নয়ন বিস্ময়’।
গতকাল মঙ্গলবার ইমাম হোসেনের গবেষণা নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, তরুণ গবেষক ইমাম হোসেনের এই গবেষণা বিশ্বের কাছে শেখ হাসিনার দর্শনকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে। হাসিনোমিক্স শব্দটি সম্ভবত দেশে প্রথম ব্যবহৃত হলো, যা আমাদের মাঝে আশার সঞ্চার করছে। আমি ইমাম হোসেনের গবেষণার সাফল্য কামনা করছি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ; লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়, ৭১ টিভির প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।
গবেষণায় উঠে আসে যে, প্রধান প্রধান উন্নয়ন সূচকগুলোতে শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ অভাবনীয় উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন, তখন জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) এবং জিডিপিপিসি (মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন) উভয়ই যথাক্রমে ৪১০.৩৯ % এবং ৪০.৪৯% বৃদ্ধি পায়।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক দর্শন, ভূমিকা এবং নেতৃত্বের প্রকৃত প্রভাবে আমরা আরও বিশদভাবে অনুসন্ধান করতে পারি- বলে জানান ইমাম হোসেন। গবেষণায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে, প্রধান প্রধান উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ দুই প্রতিবেশী দেশ- পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ অধিকাংশ উন্নয়ন সূচকেও পাকিস্তানের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে।
গবেষক ইমাম হোসেন বলেন, হাসিনোমিক্স শব্দটি ‘হাসিনা ও ইকোনোমিক্স’ শব্দযুগলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। হাসিনোমিক্স বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক দর্শন। এ গবেষণায় বাংলাদেশের উন্নয়নে হাসিনার মৌলিক নীতি, কৌশল ও দর্শনের অনুসন্ধান করা চেষ্টা করা হয়েছে, যিনি ২০০৯ সাল থেকে টানা তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই গবেষণাপত্রে হাসিনোমিক্সের মূল নীতিসমূহ অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করতে শেখ হাসিনা অর্থনীতিসহ জনসাধারণের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে মনোনিবেশ করেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গণমানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হাসিনা সরকার বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছেন। শেখ হাসিনার আদর্শ উন্নয়ন দর্শন- কল্যাণমূলক পুঁজিবাদ এবং প্রায়োগিক সমাজতন্ত্রের মেলবন্ধনে রচিত হয়েছে।
এ গবেষণায় উঠে এসেছে, কেন হাসিনোমিক্স প্রয়োজনীয় ছিল। হাসিনোমিক্সের মৌলিক নিয়ামক কী এবং কীভাবে এই নীতি বাস্তবায়িত হয়েছে? এ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক দর্শন ও নীতি অধিক কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
নিবন্ধটিতে দেখা যায় যে, হাসিনা প্রশাসনের অধীনে রেকর্ড অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নতুন সামাজিক সুরক্ষা নীতি এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এই গবেষণাপত্রে, শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলের তুলনামূলক নীতিসমূহ বিশ্লেষণ এবং উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশ ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য বাংলাদেশ কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি উদাহরণ হতে পারে তাও এ গবেষণায় অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে আমেরিকায় রিগ্যানোমিক্স, জাপানে আবেনোমিক্সসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের অর্থনীতির দর্শন নিয়ে গবেষণা হয়েছে।










