‘পারি না’ কথাটা মানুষের শব্দভাণ্ডারে থাকতে নেই। তুমি যদি কোনো কাজের পেছনে লেগে থাকো, তাহলে তুমি অবশ্যই সেটা করতে পারবে।
তুমি সত্যিই কথাটা বিশ্বাস করো?
হ্যাঁ। আর সেটাই সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার। তোমাকে কোনো সীমাবেঁধে দেওয়া না হলে তোমার মনে হবে, ‘আমি সবকিছু করতে পারি’।
কথাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী জেনিফারের। সত্যিই সবকিছু করতে পারলে সে হতো একজন পেশাদার জিমন্যাস্ট। ডমিনিক মোচিয়ানুর মতো। তার প্রিয় এই অ্যাথলেটকে জেনিফার টিভিতে দেখতো; আর তার মতোই হতে চাইতো মনে মনে।
কিন্তু সমস্যা ছিলো একটাই, জিমন্যাস্ট হওয়ার জন্য পা দু’টোই তার নেই।
জেনিফার ব্রিকারের জন্ম হয়েছিলো পা ছাড়া। জন্মের দিনই তার বাবা-মা তাকে ত্যাগ করতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি। জন্মগতভাবে দু’পা বিহীন একটি শিশুকে লালনপালন অনেক কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল হবে ভেবে জেনিফারকে তারা হাসপাতালে রেখে যান।
জেনিফারকে দেখে খুব মায়া লাগে শ্যারন ব্রিকার নামে এক মহিলার। ঠিক করেন শিশুটিকে একটি ঘর দেবেন, পরিবার দেবেন। শ্যারন আর তার স্বামী জেরাল্ড জেনিফারকে ইলিনয়ের একটি ছোট্ট শহরে তাদের ঘরে নিয়ে আসেন। নিজেদের সন্তানের মতোই লালন-পালন করতে থাকেন।
নতুন পরিবারে তিন ভাইয়ের সাথে বড় হতে থাকে জেনিফার। সেখানে সবকিছুর স্বাধীনতা ছিলো তার। শুধু একটাই নিয়ম মানতে হতো কঠোরভাবে; তা হলো ‘পারি না’ কথাটা কখনোই বলা যাবে না। পরিবারের একমাত্র নিয়মটা মেনেই নিজের জিমন্যাস্ট হওয়ার স্বপ্ন পূরণের কাজে লেগে গেলো জেনিফার।
৭ বছর বয়স থেকে জেনিফার বাবা জেরাল্ডের সাথে ট্র্যাম্পুলিনে (স্প্রিং ও মোটা কাপড়ের তৈরি বিশেষ কাঠামো) অনুশীলন শুরু করে। পড়তে পড়তে পা ছাড়াই লাফ দেয়া শিখে গেলো সে। এক সময় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরু করে জেনিফার। জিততেও থাকে প্রতিযোগিতায়।
আর হারতে না জানা এই মেয়েটিই হাইস্কুলে পড়ার সময় জিতে নিলো ইলিনয় স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে টাম্বলিং জিমন্যাস্টিক্সের শিরোপা!
শুধু জিমন্যাস্টিক্স নয়, অন্যান্য খেলায়ও অংশ নিতে শুরু করে জেনিফার, এমনকি বাস্কেটবলও!
নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করেনি কখনো জেনিফার। একবার এক বন্ধু তাকে প্রতিবন্ধী বললে সে তার প্রতিবাদ করে বলে, ‘আমি প্রতিবন্ধী নই। হুইলচেয়ার তো ব্যবহার করি যেনো গায়ে ময়লা না লাগে!’
এভাবেই চলছিলো জেনিফারের জীবন। দেখতে দেখতে ১৬টা বছর কেটে গেলো। হঠাৎ একদিন জেনিফার শ্যারনের কাছে তার আসল বাবা-মা সম্পর্কে সবকিছু জানতে চাইলো।
শ্যারনের উত্তরে তখন বেরিয়ে এলো এমন এক বিস্ময়কর তথ্য। যা শোনার কথা কল্পনাও করেনি জেনিফার। তার আসল পারিবারিক নাম মোচিয়ানু। অর্থাৎ এতোদিন যাকে রোলমডেল হিসেবে দেখে এসেছে, সেই বিখ্যাত জিমন্যাস্ট ডমিনিক মোচিয়ানু জেনিফারের আপন বোন!
সত্যি কথাটা জানার পরই ডমিনিককে খুঁজে বের করে জেনিফার। নিজের দত্তক হওয়ার কাগজপত্র এবং ছোটবেলা ও বর্তমানের ছবিসহ একটি চিঠি লিখে সবকিছু জানায় ডমিনিককে।
চিঠি পড়ে থমকে যান ডমিনিক। ছবির জেনিফার দেখতে ঠিক তার আরেক বোন ক্রিস্টিনের মতো। অবিশ্বাস করার আর উপায় থাকলো না ডমিনিকের। ফোন করলেন জেনিফারকে।
অবাক হওয়ার আরও বাকি ছিলো ডমিনিকের। চিঠিতে জেনিফার শুধু লিখেছিলো সে একজন জিমন্যাস্ট। ফোনে জানালো তার পা না থাকার কথা। অবাক হওয়ার সাথে সাথে গর্বিতও হলেন এমন এক অসাধারণ, হার না মানা মেয়েকে বোন হিসেবে পেয়ে।
জেনিফার এখন সুপারস্টারদের একজন। থাকে হলিউডে। আর পেশা? অবশ্যই একজন সফল জিমন্যাস্ট।






