আগের ম্যাচে জার্মানিকে হারানোয় পথটা অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছিল। সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে সেই আত্মবিশ্বাসেই উড়ল মেক্সিকো। এশিয়ান দলটিকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথও প্রায় পরিষ্কার করে রাখল আমেরিকান দেশটি।
রোস্তভ-অন-ডনে কার্লোস ভেলা ও হাভিয়ের হার্নান্দেজের গোলে সাউথ কোরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে মেক্সিকো।
টানা দুই জয়ে গ্রুপ ‘এফ’ থেকে তাদের পয়েন্ট এখন ৬। অবস্থান টেবিলের শীর্ষে। আর টানা দুই হারে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল কোরিয়ার।
জার্মানির বিপক্ষে যেভাবে তেড়েফুঁড়ে খেলেছিল মেক্সিকো, কোরিয়ার বিপক্ষে শুরুতে তেমন কিছু মিলল না। বল পায়ে পায়ে খেলা সেই দলের দেখা পেতে সময় গড়িয়ে গেল ২০ মিনিট। এসময়টাতেই দু-একটা সুযোগ তৈরি করেছিল সাউথ কোরিয়া। অবশ্য কাজে লাগাতে পারেনি।
টটেনহ্যামের হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দারুণ একটা মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছেন হিউন-মিন সন। মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঝে মাঝেই দেখা মিলল তার ঝলক। ২২ মিনিটে তিনদফা শট নিয়েছেন, তার একটা লক্ষ্যভেদ হলেই গোল মিলত কোরিয়ার।
দুই মিনিট বাদেই অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যাচে ফেরে মেক্সিকো। ২৪ মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে হিরভিং লোজানোর কাটব্যাক ডি-বক্সে অলস ভঙ্গিতে ঠেকাতে গিয়ে হাতে লাগিয়ে বসেন জাং হিয়ুন-সু। এমন হ্যান্ডবলে পেনাল্টি ডাকতে বাধ্য হন রেফারি। তাতে সেট পিসে গোল করেন কার্লোস ভেলা।
গোল পাওয়ার দুই মিনিট বাদেই ব্যবনধান দ্বিগুণ হতে পারত মেক্সিকোর। ২৮ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে মিগুয়েল লায়ুন দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন, তা কোরিয়ান গোলরক্ষকের হাতে লেগে মাঠের বাইরে না গেলে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সুন্দর গোলের দেখাই মিলত!
দ্বিতীয়ার্ধে কোরিয়াকে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগই দেয়নি মেক্সিকো। ৬৬ মিনিটে জার্মানিকে হারানোর নায়ক হিরভিং লোজানো বল পায়ে ঢুকে যান প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে, বামপ্রান্তে দিলেন হাভিয়ের হার্নান্দেজ, পাস দেন। সেই পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোরিয়ান গোলরক্ষকের হাতের নিচ দিয়ে জাল খুঁজে নেন হার্নান্দেজ। সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে গোলের অর্ধশতক পূর্ণ করেন ‘চিচারিতো’। লাগল ১০৪ ম্যাচ।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখ জুড়ানো শটে একটি গোল শোধ করেন কোরিয়ার হিউন-মিন সন। তাতে ব্যবধান কমে ঠিকই, কিন্তু আরেকটি গোল কমই থেকে যায় পয়েন্টে ভাগ বসাতে।








