ফাস্টফুড হ্যামবার্গার বিপণনকারী বিশ্বের সর্ববৃহৎ রেস্টুরেন্ট ‘ম্যাকডোনাল্ড’ এর নাম শুনেনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পনিটির হেডকোয়ার্টার ইলনয়েস অঙ্গরাজ্যে। মন্দায় আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেখছে তার শেষ সময়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের উপর পরিচালিত এক জরিপ থেকে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।
“গভীর মন্দার সাথে মোকাবেলা করছে ম্যাকডোনাল্ড এবং হয়তো তার সময় শেষ হয়ে এসেছে” যুক্তরাষ্ট্রে এই কোম্পানির ফাস্টফুড বিপণনকারী কয়েকটি রেস্টুরেন্টের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করে এমনটি জানিয়েছেন দেশটির কয়েকজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক।
তীব্র মন্দা মোকাবেলায় ঘুড়ে দাড়ানোর চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাকডোনাল্ড’এর সিইও স্টিভ ইস্টারবুক কয়েকটি নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। যার মধ্যে রয়েছে স্টোরগুলোতে সারা দিনের জন্য নাস্তার ব্যবস্থা চালু করা, ডিজিটালি বিন্যস্ত দোকান ও অন্যান্য নতুন মেন্যু যোগ করা।
প্রধান কার্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি চালু করা অন্যান্য নতুন পরিকল্পনার মধ্যে একটি হলো ক্রেতাদের পছন্দানুযায়ী স্বাদ তৈরির সুযোগ। কিছু উপাদান দিয়ে দ্রুততার সাথে খাদ্য পরিবেশনের সাথে পরিচিত রেস্টুরেন্টগুলোর জন্য এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তন, যার মাধ্যমে ক্রেতারা ৩০ টি ভিন্ন উপাদান দিয়ে তাদের নিজেদের জন্য বার্গার তৈরি করার সুযোগ পায়।
কিছু স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নতুন আরও কয়েকটি পদক্ষেপ যেমন সব্জির তৈরি নাস্তার মতো স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা নেয়া হয়েছে যা রেস্টুরেন্টগুলোর জনপ্রিয় হ্যামবার্গার বিপণনের সাধারণ চরিত্রের বিপরীত।
বিশ্লেষক মার্ক ক্যালিনোস্কির পরিচালিত এক সার্ভেতে দেখা যায় নতুন এই পদক্ষেপগুলো রেস্টুরেন্ট পরিচালনা কারীদের জন্য শুধুই নতুন মাথাব্যথার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
“আমরা গভীর মন্দার মধ্যে রয়েছি এবং কিছুই পরিবর্তন হয়নি।” এমনটি লিখেছেন একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি।
“সিইও আমাদের ধ্বংসের বীজ রোপণ করছেন। আমরা দ্রুত পরিবেশন করা ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট, অন্যান্য আর পাঁচটা সাধারণ রেস্টুরেন্ট নই। এই পদ্ধতিটি তার শেষ দিনের মুখোমুখি এসে দাড়িয়েছে।” বলেছেন অপর একজন।
সারাদিনের জন্য নাস্তা ব্যবস্থার ফলে কাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে বলে দেখা যায়। অতিরিক্ত কয়েকটি খাবারের তালিকা এখানে কর্মরতদের অতিরিক্ত কাজের চাপে ফেলেছে এবং ভুল করার আশঙ্কাও বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই বছরের মতো বিক্রির ক্রমহ্রাসমানতা মোকাবেলায় নতুন এই পরিকল্পনা নেয়া হলেও কয়েকজন রেস্টুরেন্ট পরিচালক এতে খুশী নন।
“এই পদ্ধতিটি চরম ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের খাদ্যের তালিকা এখনও বড় হচ্ছে এবং আমরা অধিক মানুষদের জন্য আরও অনেক কিছু করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
“ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো ব্যর্থ হয়েছে।” একজন লিখেছেন।
বিশ্বে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ম্যাকডোনআল্ডের ৮১ শতাংশ রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করে। তাই তাদের মনোবল চাঙ্গা করতে ব্যর্থ হলে মন্দা থেকে উঠে দাড়ানো অসম্ভব।
আগামী ৬ মাসের জন্য ব্যবসার অবস্থান সম্পর্কে পূর্বাভাস পেতে ২২৬ টি রেস্টুরেন্ট পরিচালনাকারী ২৯ টি ফ্র্যাঞ্চাইজির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালিনোস্কি। এতে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত সংখ্যা হিসেব করা হয়েছে যার মধ্যে ১ হলো খারাপ এবং ৫ হলো চমৎকার। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নির্ধারণ করা গড় স্কোর ছিলো ১.৬৯, যা ১২ বছর আগে জরিপ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন।







