হারিকেন ঠেকাতে বা ধ্বংসের জন্য পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ করার ধারণা ‘ধ্বংসাত্মক’ বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ন্যাশনাল ওসানিক এন্ড অ্যাটমস্ফিয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)।
মার্কিন বৈজ্ঞানিক আবহাওয়া সংস্থাটি বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প হারিকেন সম্ভাব্যতা ধ্বংসের জন্য এই বিকল্প খুঁজছিলেন। কিন্তু এটি কোনো ভালো ধারণা নয়।
বিবিসি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বিষয়টির সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে একাধিক জাতীয় বৈজ্ঞানিক, আবহাওয়াবিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এটি ‘ধ্বংসাত্মক’ ধারণা।
ডোনাল্ট ট্রাম্প জানতে চেয়েছিলেন যে, হারিকেনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় আমেরিকা কেন ঝড়ের চোখে বোমা ফেলতে পারে না?
তবে এনওএএ বলছে যে, হারিকেনের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে ‘ঝড়ের গতি বদলানো যাবে না’ এবং তেজস্ক্রিয়তাও হ্রাস করা যাবে না। বরং তা উল্টো ধ্বংসাত্মক হবে। হারিকেন পরিবর্তন করতে বিস্ফোরক ব্যবহারে সমস্যা হলো, এর শক্তির সংকট। হারিকেনের উত্তাপ প্রকাশটি প্রতি ২০ মিনিটে ১০ মেগা টন পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণের সমান। যদিও একটি বোমার যান্ত্রিক শক্তি ঝড়ের কাছাকাছি থাকলেও, একটি প্রত্যন্ত সমুদ্রের মাঝখানে একটি জায়গার ওপর অর্ধেক শক্তি কেন্দ্রীভূত করার কাজটি ভয়ানক হবে’।

সংস্থাটি বলছে, দুর্বল গ্রীষ্মীয় তরঙ্গ আক্রমণের আগে হারিকেন হ্রাসে তা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। এর মধ্যে প্রায় ৮০টি ঝামেলা আটলান্টিক অববাহিকতায় প্রতিবছর গঠন করে, তবে একটি সাধারণ বছরে প্রায় পাঁচটি হারিকেন হয়ে যায়। কোনটি বিকশিত হবে তা আগেই বলার উপায় থাকে না’।
হারিকেন ঠেকাতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের এই ধারণা নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫০ এর দশক থেকে এই ধারণাটি নিয়ে কথা হয়। আমেরিকার এক বিজ্ঞানী এই ধারণা দিয়েছিলেন।
১৯৬১ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক বক্তৃতার সময় মার্কিন আবহাওয়া ব্যুরোর প্রধান ফ্রান্সিস রিচেল্ডারফার বলেন, তিনি কোনো একদিন সমুদ্রের নিকটে হারিকেনের ওপর পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সম্ভাবনা কল্পনা করতে পারেন’।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মতে, ওয়েদার ব্যুরো কেবল তখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন শুরু করবে যখন ‘আমরা জানি আমরা কী করছি’, যুক্ত করেন তিনি।
এনওএএ বলছে, প্রত্যেক হারিকেন মৌসুমে প্রায়শই ধারণাটি সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
আটলান্টিকে হারিকেনের মৌসুম শুরু হয় ১ জুন থেকে, তা অব্যাহত থাকে নভেম্বর পযন্ত। এই মাসগুলিতে সেপ্টেম্বরে শীর্ষ মৌমুসটি আসে যখন সমুদ্রের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ থাকে।

এনওএএ চলতি মাসের শুরুর দিকে সতর্ক করে যে, ওপরের সাধারণ হারিকেলের জন্য এখন পরিস্থিতি আরো অনুকূলে, এটি ১০ এবং ১৭ নামধারী ঝড়ের মধ্যে পূর্বাভাস দিচ্ছে, যার মধ্যে ৫-৯টি হারিকেন হয়ে উঠবে, ২-৪টি হবে বড় ঘূর্ণিঝড়।
সাধারণত হারিকেন মার্কিন পূর্ব উপকূলে প্রভাব ফেলে এবং প্রায়শই মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে থাকে।








