২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন কয়েক’শ মানুষ।
২০০৮ সালে বিচার শুরু হওয়া মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ৫২ জন আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ পলাতক রয়েছে ১৯ জন।
ওই বছরের ১১ জুন এ মামলার প্রথম অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর। এতে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, মাওলানা তাজউদ্দিন সহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ২০১১ সালে সম্পূরক অভিযোগপত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যুক্তকরে মোট ৫২ জনকে আসামি করার পর থেকে এই চাঞ্চল্যকর মামলা নতুন মাত্রা লাভ করে।
গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়। পরে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুর রশিদ হয়ে মুন্সি আতিকুর রহমানের কাছে যায়। অভিযোগ ওঠে মুন্সি আতিক ও আব্দুর রশিদ মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য জজ মিয়া নাটক সাজান।
মামলার মোট ৫২ জন আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ পলাতক রয়েছে ১৯ জন। জামিনে রয়েছেন আটজন। লুৎফুজ্জামান বাবর, আলী আহসান মুজাহিদ, আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৬ জন রয়েছেন কারাগারে রয়েছেন। পলাতকদের কে কোথায় আছেন এ নিয়ে খোদ প্রশাসনও অন্ধকারে।
পলাতক আসামিদের মধ্যে তারেক রহমানসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, মেজর (অব.) এ টি এম আমিন, ডিএমপির সাবেক ডিসি ওবায়দুর রহমান ও খান সাঈদ হাসান, মুফতি আবদুল হাই, হাফেজ ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, বরিশালের মাওলানা আবু বকর, ঝিনাইদহের ইকবাল, মাগুরার খলিলুর রহমান, দোহারের জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর, গোপালগঞ্জের মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, রাতুল বাবু, আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিন পলাতক রয়েছেন।।
এছাড়াও জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গির আলম বদর, ইকবাল, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের মধ্যে মোরসালিন ও মুত্তাকিন ভারতে আটক রয়েছেন।
বাবর, মুজাহিদ ও আব্দুস সালাম পিন্টু ছাড়া কারাবন্দি আসামিরা হলেন- ডিজিএফঅাই-এর সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই-এর সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম ওরফে আবদুল মান্নান ওরফে মুফতি হান্নান, শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, শেখ আবদুস সালাম, আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউছুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর ওরফে আবু হুমাইয়া ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিব উল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সায়ীদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গির আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামীম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামীম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন- খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক আইজিপি খোদাবক্স, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ ও ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ।







