জানুয়ারির বাংলাদেশ সফর শ্রীলঙ্কার জন্য ‘বিশাল চ্যালেঞ্জ’ বলে মনে করেন টাইগারদের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। দায়িত্ব নেয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরদোমে লঙ্কান ক্রিকেটারদের নিয়ে অনুশীলন করেন তিনি। শুরু থেকেই লঙ্কান শিবিরে চমকপ্রদ সব পরিবর্তন নিয়ে হাজির হয়েছেন।
সকাল থেকে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। সবাইকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অনুশীলনের সময় কোনো গাফিলতি নয়।
বাংলাদেশ সফর দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে লঙ্কান অধ্যায় শুরু করবেন হাথুরু। গত অক্টোবরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
‘আমি আবার বাংলাদেশে যাচ্ছি। এটি অনেক আগ্রহের জন্ম দিচ্ছে। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারছি না। অন্যদিকে বাংলাদেশ দুই বছর ধরে ঘরের মাঠে শক্তিশালী। আমাদের জন্য সফরটা বিশাল চ্যালেঞ্জ।’ প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে বলছিলেন হাথুরু।

শ্রীলঙ্কা ১৩ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিবে। ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয়ার পর দুটি টেস্ট এবং দুটি টি-টুয়েন্টি খেলবে দলটি।
এই সফরের অনুশীলন শুরুর দিন সকাল দশটায় মাঠে চলে আসেন হাথুরুসিংহে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা সেরে দুপুর একটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অনুশীলন করেন।
শ্রীলঙ্কা সম্প্রতি ভারত সফরে নাকানিচুবানি খেয়ে দেশে ফিরেছে। এই অবস্থা থেকে দলকে উদ্ধার করাই নতুন কোচ হাথুরুসিংহের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন শ্রীলঙ্কা এই মুহূর্তে কিছু কিছু কাজ ঠিক করছে না, ‘কয়েকটা জিনিস আমরা ঠিক করছি না। যার কারণে আজ এই অবস্থা। আমাদের স্কিল আছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আছে, যারা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে ওঠার যোগ্যতা রাখে। যদি তারা প্রতিভার ঠিক ব্যবহার না করে, তাহলে বুঝতে হবে ভুল কিছু হচ্ছে।’
শ্রীলঙ্কা দল গত কয়েক মাসে শৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় ভুগছে। ওপেনিং ব্যাটসম্যান দানুশঙ্কা গুনাথিলাকা গত সেপ্টেম্বরে পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ হন। হাথুরু বলছেন ভবিষ্যতে এসব আর ঘটবে না, ‘সামনে এসব আর ঘটবে না। কেউ যদি অনুশীলনের সময় গান শুনতে চায়, ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি চলে যেতে পারে। আগে কী ঘটেছে সেটা আমি বলতে পারি না। আমি সবাইকে বলেছি অনুশীলনই সফলতার চাবি। আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে ভাল কিছু করার সুযোগ পাবো।’

বাংলাদেশে কোনো দল খেলতে আসলে স্পিন নিয়ে সমস্যায় ভোগে। হাথুরুর থেকে এই মুহূর্তে সেটা আর কেউ ভালো জানে না। আর তাই প্রথম দিনই স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কাজ করেছেন। ফিল্ডিংয়ে দিয়েছেন আলাদা মনোযোগ, ‘ছেলেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আমি অনুশীলনের পরিবেশটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি। আমরা কীভাবে প্রস্তুতি নেই, কীভাবে যোগাযোগ করি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ‘
চমক আনছেন আরো। মনোবিদ ড. ফিল জনসিকে নিয়োগ দিবেন ঢাকা আসার দুই সপ্তাহ আগে। তার আগে খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য জরিপ চালাচ্ছেন। প্রথমদিনই সবাইকে এক সেট প্রশ্ন ধরিয়ে দিয়েছেন।
‘প্রশ্নগুলো আমার তৈরি নয়। ৪০টির মতো প্রশ্ন আছে। মনোবিদ এগুলো তৈরি করেছেন। চার বছর ধরে তার সঙ্গে আমি কাজ করছি। বছরে তাকে চারবার আনার পরিকল্পনা আছে। এই প্রশ্নগুলো দিয়ে খেলোয়াড়দের বোঝা আমার জন্য সহজ হবে।’








