২০১৬ সালের রমজান মাসের শেষের দিকে মানুষ যখন ঈদের আনন্দে আনন্দিত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল, তখন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে যায়। ওই বছরের ১ জুলাই রাতে তারাবিহ নামাজ বাদ দিয়ে পথভ্রষ্ট কতিপয় যুবক রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায়। সেখানে রাতভর জিম্মি করে রেখে জঙ্গিরা দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, এক ভারতীয় ও এক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করে।
নারকীয় এই ঘটনার পর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’সহ পরবর্তী সময় জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ডসহ অনেক জঙ্গি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হয়। এটাকে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক বড় সফলতা হিসেবে দেখতে চাই। তবে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ার বিষয়টি দুঃখজনক। খুব শিগগিরই এ ঘটনায় নির্ভুল তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমার মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে আমরা আশা করি।
হলি আর্টিজানে হামলার আগে এ দেশের মানুষ এমন হামলার কথা কখনো কল্পনাই করতে পারেনি। তবে আশার খবর হলো- এই হামলার পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে কখনোই জঙ্গিবাদ প্রশ্রয় পায়নি। মানুষ খুন করে যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায় না, ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে নিরীহ মানুষ খুন করা যে অন্যায়, এটা এদেশের জনগণ খুব ভালোভাবে বোঝে বলেই জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
একই সঙ্গে এ কারণে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। সরকারের এত সতর্কতা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন এলাকায় সকাল সন্ধ্যা নিরাপত্তা সতর্কতার পরও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বিভিন্ন গোষ্ঠী তরুণদের বিপথগামী করে যেকোনো সময় জঙ্গি হামলা ঘটাতে পারে বলে মানুষ আশংকা করছে। জনগণের এই শঙ্কার সঙ্গে দেশের বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একমত পোষণ করেছেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।
এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর দেশের প্রায় সব আলেম একমত হয়েছেন, ইসলামের নামে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই প্রকৃত ইসলাম নয়। এমনকি জঙ্গি বিরোধী জাতীয় ঐক্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জঙ্গিদের লাশ পর্যন্ত তাদের বাবা-মা গ্রহণ করেননি। বেয়াওয়ারিশ লাশ হিসেবে দিনের পর দিন মর্গে পরে থাকার পর দাফন হয়েছে। তাদের পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজন সামাজিকভাবে অনেক হেনস্তার শিকার হয়েছে। এখান থেকে আমাদের তরুণরা শিক্ষা গ্রহণ করবে বলে আমরা মনে করি। জঙ্গিবাদের অন্ধকার পথে না গিয়ে তারা বিশ্বব্যাপী আলোর মশাল তুলে ধরবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।








