হলিউডের এক চলচ্চিত্র পরিচালকের ছেলে এখন জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভিডিও চিত্রের স্টার। ২৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত লুকাস কিনেই পালিয়ে সিরিয়া গিয়ে আল-কায়েদায় যোগ দিয়েছে।
আল-কায়েদার প্রতিনিধি হিসেবে দলটির বেশকিছু অনলাইন প্রোপাগান্ডা ভিডিওতে অভিনয় করেছে লুকাস। নতুন সদস্যদের আকৃষ্ট করতে ভিডিওগুলো ব্যবহৃত হয়।
লুকাসের বাবা প্যাট্রিক স্টিভেন স্পিলবার্গসহ বড় বড় পরিচালকদের সঙ্গে সহকারি পরিচালক হিসেবে অনেক ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।
প্রথম জীবনে লুকাস ছিলো ক্যাথলিক খ্রিস্টান। ক্যাথলিক হিসেবেই ছোট থেকে বড় হয়েছে সে। এমনকি কিশোর বয়সে লুকাস বলে বেড়াতো বড় হয়ে সে একজন পাদ্রী হবে।
লুকাসের মা ডেবরাহ ফিপস ব্রিটিশ অনলাইন গণমাধ্যম ডেইলি মেইল’র কাছে আশংকা প্রকাশ করেন, তার ছেলে হয়তো খুব শিঘ্রই কোনো একদিন ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর হামলায় অথবা রুশ বোমা হামলায় নিহত হবে। আবার লুকাস আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবেও মৃত্যুবরণ করতে পারে বলে ভয় পাচ্ছেন তিনি।
ডেবরাহ মাঝে মাঝেই ছেলের কাছ থেকে ই-মেইল পান। কিন্তু লুকাস কীভাবে একজন হাসিখুশি মেধাবী কিশোর থেকে জঙ্গিতে পরিণত হলো, তা তিনি কিছুতেই বুঝতে পারছেন না।
উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল শেষে লুকাস লিডস ইউনিভার্সিটিতে এক বছর পড়াশোনা করে পড়া ছেড়ে দিয়ে বেশ কিছুদিন কিছু রক ব্যান্ডে গিটার বাজায়। এরপর চলে যায় ভিয়েনায় বাবার কাছে। সেখানেই তার মাথায় মৌলবাদের বীজ বোনা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেবরাহ বলেন, ‘আমি তাকে নিয়ে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। তবে এতটুকু সান্তনা যে সে আল-কায়েদায় ঢুকেছে, অন্তত আইএস-এ যোগ দেয়নি।’ তবে আইএস’র কাছ থেকে মাঝে মাঝেই লুকাস হুমকি পাচ্ছে বলে মাকে সে ই-মেইলে জানিয়েছে।
আল-কায়েদার ভিডিও চিত্রগুলোতে লুকাস নিজ দলের সুনাম করে এবং ব্রিটিশ জনগণকে বেশি করে আল-কায়েদায় যোগ দিতে উৎসাহিত করে। শুধু তাই নয়, লুকাস ভিডিওতে আইএস’র কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে বক্তব্য দেয়। দলটি ‘ইসলামিক স্টেট’ নামের যোগ্য নয় বলে ভিডিওতে বলতে শোনা যায় তাকে।







