গত বছরের ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচির সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল বোমায় হতাহতের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও হত্যা ও নাশকতায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা হয়েছে। চার্জশিট হওয়ার পর এখন মামলাগুলো বিচার শুরুর অপেক্ষায়।
গত বছরের ২৪ জানুয়ারি যাত্রাবাড়িতে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় দগ্ধ হন ২২ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাসযাত্রী নুরুল আলমের। ওই ঘটনায় দণ্ডবিধি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে দু’টি মামলা হয়।
হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির মামলায় খালেদা জিয়াসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা-পুলিশ। আর নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় চার্জশিট দেয়া হয় খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে। চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ২৮ জানুয়ারি।
মহানগর পিপি মো. আব্দুল্লাহ আবু বলেন, এ মামলাগুলি বর্তমানে সিএমএম আদালতে আছে এটা মহানগরের সেশন কোর্টে চলে আসবে। খালেদা জিয়াকে এ মামলার হুকুমের আসামী করা হয়েছে। যেহেতু তার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট হরতাল অবরোধ এ সমস্ত কর্মসূচি পালনকালে এ সমস্ত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটে।
তিনি আরো বলেন, যেহেতু হত্যা মামলা তাই দোষ প্রমাণ হলে মৃত্যুদণ্ড, এখানে সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে কারা দোষী আর কারা নির্দোষ।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাকে রাজনৈতিক দাবি করে আইনীভাবে মোকাবেলার কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো. মহসিন মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে যারা থাকে তারা হুকুম দেয়, সেই হুকুম হলো হুকুম। আর এই হুকুম হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এর ফলে যারা সত্যিকারের ক্রিমিনাল, যারা অপরাধ সংগঠন করেছে তারা এই বিচার থেকে অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যেকটা মামলা মোকাবিলা করছি এবং আইনের চুলচেরা বিশ্লেষন দিয়েই দেশ নেত্রীসহ সমস্ত নেতা-কর্মীদের মুক্ত করবো।
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।







