যে কোনো সংবেদনশীল মানুষই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার ঘোর বিরোধী হবেন, আমিও। সেটা যে কোনো ধর্মই হোক না কেন। অনুভূতি সবারই থাকে। পারস্পরিক অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই আর কোনো ঝামেলা থাকে না ।
ধর্ম সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাস। শান্তির একটি জায়গা। সৎ থাকা, সত্য বলা, মানুষ তথা জীবে ভালবাসা দেখানো, সহনশীলতা, মানবিকতা- সকল ধর্মেই মূল নির্দেশাবলি মোটামুটি একইরকম। ধার্মিক হলে ধর্মীয় বিধান মতই চলার কথা! আর সেভাবে চললে কোনো সংঘাত হওয়ারও কথা না!
আমরা ধর্ম ধর্ম করি ঠিকই, কিন্তু ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলি কতখানি তা ভাবার আছে। কারো উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়ার বিধান আমাদের ধর্মের কোথাও নেই। স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে দেয়ার নির্দেশই বরং আছে । কাজেই যে যার ইচ্ছে অনুযায়ী ধর্ম পালন করবে। নিজের ধর্মের প্রতি সত্যিকার অর্থেই কারো শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর বিশ্বাস থাকলে তিনি কখনোই অন্য ধর্মের প্রতি অসন্মান দেখাতে পারেন না ।

আমি আমার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবো। অন্যরা তার ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করবে। কেউ কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করবো না, অবমাননা করবো না, এটাইতো হওয়া উচিত।
আবার কে কোন ধর্ম পালন করবেন সেটা যেমন তার ব্যক্তিগত বিষয় তেমনি কেউ ধর্ম পালন করবেন কি করবেন না সেটাও তার একান্ত ব্যক্তিগত জীবনদর্শন।
ধর্মতো যুক্তিতর্কের বিষয় নয়, সম্পূর্ণ বিশ্বাস। যার যার বিশ্বাস নিয়ে সেই থাকুক! এ নিয়ে অযাচিত বাক-বিতণ্ডা, মারামারি, কাটাকাটি একেবারেই অনাহুত। সকল ধর্মের মানুষই মানি যে স্রষ্টা সব কিছুই দেখছেন এবং তিনি বিচারের মালিক। নিজেরা মারামারি না করে যার প্রতি এত বিশ্বাস তার উপরই না হয় বিচারের ভার ছেড়ে দেই।
রাষ্ট্র ও ধর্ম দুটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। ধর্ম যেমন ব্যক্তির, তেমনি রাষ্ট্র সবার। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। সেই নাগরিক যেই হন না কেন, যে ধর্মেরই হন না কেন। আস্তিক কিংবা নাস্তিক যাই হন।
সকল ধর্মের লোকজন নিয়েই রাষ্ট্র। রাষ্ট্রে সবারই সমান অধিকার। কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি কিছুতেই শুধু একটি নির্দিষ্ট মতামতের উপর ভিত্তি করে হতে পারে না।
রাষ্ট্রে আইন আছে, বিচার ব্যবস্থা আছে। আইনবিরোধী বা সমাজবিরোধী কাজ কেউ করলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। কিন্তু কাউকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করার অধিকার কারো নেই। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে তার সকল নাগরিকই সমান।
গণপ্রজাতন্ত্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে- বেঁচে থাকার অধিকার, কথা বলার বা মত প্রকাশের অধিকার অন্যতম। রাষ্ট এসব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। বাস্তবে কী তেমন হয়? অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানতো বাদই দিলাম। ন্যূনতম নাগরিক অধিকারও কী আমরা ভোগ করি!
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকার প্রধান যখন জনসমাবেশে তার কোনো নাগরিককে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান তখন সেটা সেই নাগরিককে হত্যা করার বৈধতা দেয়ারই নামান্তর। যা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে আমরা গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে জানি, মানি। অন্তত আপনার কাছ থেকে এরকম কিছু কিছুতেই আশা করি না।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








