এক কোটি টাকা লুটপাটের টার্গেট নিয়ে এবার হজের সময় সৌদি আরব যাচ্ছিলো বাংলাদেশের একটি পকেটমার চক্র। চক্রের ১২ সদস্য গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
মালিবাগ রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পকেটমার চক্রের ৬ সদস্য এবং শাহবাগ থেকে আরও ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এদের মধ্যে ৩ জন নিজেদের হজযাত্রী বলে পুলিশের কাছে দাবি করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে আলহাজ আব্দুল গফুর, আলহাজ টুটুল এবং আলহাজ ইব্রাহীম এর আগেও হজের সময় সৌদি আরব গিয়েছিলো। তারা এবারও পকেটমারের উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। তারা জানায়, এ কাজে দলনেতা আব্দুল গফুর ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আলহাজ মোহাম্মদ টুটুল বিশ্বাস ওরফ সুমন এই গ্রুপের নেতা। এই তিনজন একাধিকবার হজে গিয়ে এই কর্মকান্ড করেছে এবং একজন সেখানে ধরা পরে জেলও খেটেছে। এরা হজে যায় মূলত এইসময় যেহেতু ভীড় থাকে, এসময় এরা পিক পকেটিং করে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, শুধু বাংলাদেশই নয়, নাইজেরিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকেও পকেটমার চক্র হজ মৌসুমে সৌদি আরব যায়। তাদের মূল টার্গেট থাকে ইন্দোনেশীয় হজযাত্রীরা। এ চক্রের সদস্যরা হজ মৌসুম শেষে পুরো বছর অজ্ঞান পার্টি চক্রে সক্রিয় থাকে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, এরা মুলত দুটি অজ্ঞান পার্টির সদস্য। তাদেরকে হাতেনাতে ধরেছি। এরা যে সমস্ত খাদ্য দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে থাকে সে সমস্ত খাদ্যদ্রব্যের পাশাপাশি এরা অজ্ঞান করার জন্য যে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করে সেই ঘুমের ওষুধ তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পকেটমার চক্রকে সৌদি আরব পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো হজ এজেন্সির সহায়তা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।







