অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২০তম দিনে মেলায় এসেছে স্বরলিপি প্রথম কবিতার বই ‘মৃত্যুর পরাগায়ন’। বইটিতে মোট কবিতা রয়েছে ৪৮টি।
কবিতায় প্রধান হয়ে উঠেছে জীবনবোধ। আছে প্রেম ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার সাক্ষর। তার কবিতার কিছু অংশ উপস্থাপন করা যাক: ‘হাতে কয়েকটি টাকার নোট/ভিন্ন ভিন্ন ঘ্রাণ/টাকারা ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছে।/ভাবছি কোন টাকাটা কোথা থেকে এলো/পড়েছিল কার বুক-পকেটে/কার ভাবনার অগ্রহায়ন/ছড়িয়ে দিল চোখের চাতালময়’ টাকা শিরোনামের কবিতাটি তিনি এভাবে উপস্থাপন করেছেন।
আবার বলা যায়, তোমার চোখের নীল- গল্পটা মাকে বলেছিলাম/মা জানতো- নীল হলে গল্প কতটা ভয়ানক হয়/এই বলে মা আমাকে সমুদ্র দেখাতে নিয়ে গেলো/প্রথম সমুদ্র- কিন্তু ঢেউগুলো পরিচিত/আমার জন্মের পুর্বেই- এইখানে গুম হয়ে গেছে ভৈরবী গান/ডুব দেবার নেশা তবু ছাড়িনি’।
এখন প্রশ্ন এসে যায়, বইয়ের নাম ‘মৃত্যুর পরাগায়ন’ কেন? প্রশ্নের জবাবে স্বরলিপি বলেন, ‘বিষয়টা এই যে, ‘মৃত্যু একটি সীমারেখা। এই সীমারেখাকে সামনে রেখে আমরা ভালোবাসি, অপেক্ষা করি, লড়াই করি। এর সবই উত্তরাধিকারদের জন্য রেখে যেতে চাই। একটা ঘর তৈরির সময় খেয়াল রাখি আমাদের আয়ুষ্কাল। কী নিবিড়ভাবে জীবনে মিশে থাকে মৃত্যুর প্রভাব। ভালোবাসতে বাসতে নিজেকে আবিষ্কার করা, অপেক্ষা করতে করতে নিজের ইগো মুছে ফেলা আর লড়াই করতে করতে কোন একটা গন্তব্যের মুখোমুখি হওয়া। আমার কাছে জীবন মানে অনন্ত পথের ধারে একটা সবুজ কটেজ। তুমি মানেও তাই। আমি মৃত্যুকে জীবনের ওপর আছড়ে পড়ে জীবনকে আন্দোলিত করে তুলতে দেখি। এটা একটা অ্যাঙ্গেল মাত্র। এই নামকরণের পিছনে খণ্ড খণ্ড এমন আরও যুক্তি আছে। পরাগায়ন একটা ইতিবাচক শব্দ। এখানে মৃত্যু নন্দিত!
বইটি প্রকাশ করেছে অর্বাক। প্রচ্ছদ করেছেন সিলভিয়া নাজনীন। বইটির মূল্য ১৫০টাকা। এটি পাওয়া যাবে লিটলম্যাগ চত্বরের ১১ নম্বর স্টল অর্বাকে।
এর আগে, ২০১৬ সালে স্বরলিপির প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ মুদ্রার ফসিল’ প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশ করেছে অর্বাক।







