স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা ছিল। একইসঙ্গে ছিল চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে স্বপ্ন হলো সত্যি। সবশেষ স্প্যান (৪১তম) বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২ মিনিটে বসিয়ে জুড়ে দেওয়া হলো পদ্মার দুই পাড়। এর মধ্যদিয়ে শেষ হলো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুর গুরুত্বপূর্ণ কাজ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯টি জেলা।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি খুঁটির উপর বসেছিল ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। এর তিন বছরেরও বেশি সময় পর আজ বৃহস্পতিবার মূল সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারে ৪১তম শেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতু।
এছাড়াও সেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্লাবের মধ্যে ১ হাজার ৪১টির বেশি রোড স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আর ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বহুমুখী এ সেতু হবে দোতলা। পদ্মাসেতুর মূল কাঠামো স্টিলের, যা স্প্যান নামে পরিচিত। এই স্প্যানের ওপর কংক্রিটের প্রলেপ দিয়ে রাস্তার কাঠামো তৈরি করা হবে; যার ওপর দিয়ে যানবহন চলাচল করবে।
এ বিশাল কর্মযজ্ঞ মোটেও সহজ ছিল না। পদ্মা সেতু যেন তৈরি হতে না পারে এজন্য চলেছে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র। এসেছে বিভিন্ন অপবাদও। একে একে সরে গেছে বিশ্বব্যাংক সহ আন্তর্জাতিক নানা সংস্থা। তবে এরপরও নিজেদের সক্ষমতায় পদ্মা সেতু আজ বাস্তব। এরফলে বিশ্বে বাংলাদেশ আরেকবার নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
বিজয়ের মাসে আরেকবার বাঙালির মাথা উঁচু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তে। তিনি চেয়েছিলেন বলেই সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে পদ্মা সেতু পূর্ণতা পেয়েছে। পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের এই ক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।







