পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন এবং মূল সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার প্রথমে জাজিরার নাওডোবা পয়েন্টে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে মাওয়া পয়েন্টে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় কোস্টগার্ডের একটি জাহাজে জাজিরা থেকে মাওয়া যাওয়ার পথে পদ্মানদীর মাঝামাঝি ৭ নম্বর পিলারের পাইলিং কাজ প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে সকাল ১১টার দিকে জাজিরা পৌঁছান তিনি।
উদ্বোধন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি কোথায় হয়েছে তা জানতে চেয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক প্রমাণ করতে পারেনি বাংলাদেশ পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে। কারণ তাদের কাছে এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই যে তারা আমাদেরকে জানাবে।’
২০১৮ সালের মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। নিজস্ব অর্থায়নে এটি এ পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এর জন্য খরচ হবে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা।
এ সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চল। এই সেতুতে ট্রেনও চলবে। এশিয়ান হাইওয়ের পথ হিসেবেও সেতুটি ব্যবহৃত হবে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ৫টি ভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে রয়েছে; মূল সেতু, নদী শাসন, দু’টি লিংক রোড এবং অবকাঠামো (সার্ভিস এলাকা) নির্মাণ। এর মধ্যে মূল নির্মাণ কাজ পাইলিং ও নদীশাসন।
মূল সেতু নির্মাণে চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নদীশাসনের জন্য গত চার মাস ধরে মাটি পরীক্ষা ও খনন কাজ চলছে। সেতুতে মোট ৪২টি পিলার থাকবে। পিলারের ওপর স্টিলের স্প্যান বসানো হবে। সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসানো হবে।
নদী শাসনের জন্য চীনের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অার বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড নির্মাণ করবে দুটি অ্যাপ্রোচ রোড ও অবকাঠামো।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট এবং কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস সেতুর নির্মাণ কাজ তদারকি করবে।







