কেনিয়ার মানুষ এখন স্বপ্নের মতো ঘোর লাগা এক সময় অতিবাহিত করছে। বিশ্বের মহাপরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গিয়েছেন তাদের দেশে। সমগ্র বিশ্বে ছড়ি ঘোরানো দেশটির প্রেসিডেন্ট যে জন্মসূত্রে তাদেরই একজন। কেনিয়ান বাবা এবং মার্কিন মায়ের সন্তান এই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি কেনিয়ানদের জীবনে নিয়ে এসেছেন স্বপ্নাতীত বাস্তবতা।
২০০৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বারাক ওবামার কেনিয়ায় আগমনকে ‘ঘরে ফেরা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে কেনিয়ার গণমাধ্যমগুলোতে।
এয়ারপোর্ট থেকে ওবামার গাড়িবহরকে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানায় রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা হাজারো জনতা।
কেনিয়ায় ওবামার সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদারে নাইরোবিতে নিয়োগ করা হয়েছে দশ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা। প্রধান প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান উপর থেকে সমগ্র পরিস্থিতি দেখছে টহল দিয়ে।
শুক্রবার দুইদিনের রাষ্ট্রিয় সফরে আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় পৌঁছান ওবামা।
রাতেই বৃহত্তর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময়ও দেন তিনি। সৎ দাদি মামা সারাহসহ পিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান ওবামা। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে পিতার সমাধিতে যেতে পারেননি।
কেনিয়ায় সফরকালে ষষ্ঠ বিশ্ব উদ্যোক্তা সম্মেলনে নাইরোবিতে নিজের প্রথম বক্তৃতায় ওবামা আফ্রিকার অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনার প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেন, আফ্রিকা জাগছে, দরিদ্রের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসছে আফ্রিকানরা, আয় বাড়ছে এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে।
উদ্যোক্তা সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার পর ওবামা ১৯৯৮ সালে আমেরিকান দূতাবাসে বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
কেনিয়া সফর শেষে রোববার ইথিওপিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনে ভাষণ দেবেন ওবামা। আফ্রিকার দেশগুলোতে সংলাপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নাগরিক সমাজের সুযোগ সৃষ্টি প্রেসিডেন্ট ওবামার এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রথম কৃষাঙ্গ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েই আফ্রিকান-আমেরিকান বারাক ওবামা এক নতুন বিস্ময়ের সূচনা করেছিলেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১২ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা।







