এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অব্যাহতির ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, এটা আওয়ামী লীগের জন্য বড় বিষয় না, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও তা বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
একে মন্ত্রিসভায় শৃঙ্খলা আনতে প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টা হিসেবে মনে করছেন তারা।
সৈয়দ আশরাফকে ‘ব্রাত্য’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয়’ মন্ত্রী উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক রোবায়েত ফেরদৌস চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সর্বোচ্চ দলের জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে তাকে দায়িত্ব দেওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর অনেক আগেই সৈয়দ আশরাফকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিলো বলে মনে করেন তিনি।
ওয়ান ইলেভেনের পর দলের প্রতি সৈয়দ আশরাফের নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকার তাকে দলীয় সাধারণ সম্পাদক করার পাশাপাশি এতো বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো বলে উল্লেখ করেন রোবায়েত। তবে তিনি তাকে জানানো সম্মান ধরে রাখতে পারেননি বলেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার অবশ্য সৈয়দ আশরাফের অব্যাহতিকে প্রধানমন্ত্রীর একটি বার্তা হিসেবে মনে করছেন।
তিনি বলেন, দৃশ্যতঃ আমার কাছে মনে হচ্ছে এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আসলে একটি বার্তা দিলেন। তবে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আশরাফের অব্যাহতির ঘটনা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
আশরাফের অব্যাহতিকে দলীয় ‘শৃঙ্খলা আনয়ন প্রচেষ্টা’ উল্লেখ করে শান্তনু মজুমদার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, একনেকের বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি বড় প্রকল্প উপস্থাপনকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর অনুপস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে নেননি প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্যই তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে দৃশ্যতঃ মনে হয়।
কিশোরগঞ্জে সৈয়দ আশরাফের নির্বাচনী এলাকায় এক গবেষণার কাজে গিয়ে তার সম্পর্কে স্থানীয় জনগনের নেতিবাচক মনোভাব দেখেছেন বলেও শান্তনু জানান। তিনি বলেন, সেখানকার জনগণ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে তিনি এলাকার কোন কাজ করেন না।
তবে আশরাফকে একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করে শান্তনু মজুমদার বলেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। ক্ষমতাসীন নেতাদের বাকপ্রয়োগে মাঝেই মাঝেই যে লাগামছাড়া অবস্থার সৃষ্টি হয় সেই বিবেচনায়ও আশরাফকে অনেকটাই পরিশীলিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে দৈনিক ভোরের কাগজ’এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে নিয়োজিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনাস্থা দলে একটা নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি করবে।
সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রণালয় এবং দলীয় নেতাকর্মীরা পেতেন না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তার অব্যাহতির ঘটনাটা অপ্রত্যাশিত নয়। আশরাফকে অব্যাহতির ঘটনা অন্যান্য মন্ত্রীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর একধরনের বার্তা।
এর ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি আসবে বলেও উল্লেখ করে শ্যামল দত্ত বলেন, এলজিআরডির নতুন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বরত থাকবেন। দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন এরকম একজনকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে ভালো হতো।







