বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের হারও।
চিকিৎসকেরা বলছেন, স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে, ওই অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়।
সেটি রক্তনালীর লসিকা (কোষ-রস) ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ক্যান্সার।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদেন বলা হয়েছে,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে শতকরা ৯৮ শতাংশের বেশি নারী, তবে খুব অল্প সংখ্যক পুরুষও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে কিছু লক্ষণ আছে যে গুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে স্তন ক্যান্সারের ঝুকিঁ রয়েছে।স্তনে ব্যথাহীন শক্ত টিউমর হতে পারে। ব্যথা নেই বলে ডাক্তারকে দেখাতে বিলম্ব করা যাবেনা্
তবে স্তনে টিউমর মানেই ক্যান্সার নয়। ৮৫% ব্রেস্ট টিউমর ম্যালিগন্যান্ট হয় না। তবুও ব্যথা হোক বা না হোক, স্তনে কোনও শক্ত ভাব দেখা দিলে তখনই চিকিৎসকের যওয়া উচিত।
স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত পড়াও একটি লক্ষণ। তবে এই লক্ষণ থাকলেও ৮০% ক্ষেত্রে ক্যান্সার হয় না। সংক্রমণ বা বিনাইন টিউমরের জন্যও এমন হতে পারে। স্তনবৃন্ত ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে, ব্যথা নেই সে ক্ষেত্রেও ক্যান্সার হতে পারে।
তবে অ্যাডভান্সড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে স্তনের চামড়া শক্ত হয়ে কমলালেবুর খোসার মতো হয়ে যায় এবং ব্যথা কম থাকে।
এছাড়া ব্রেস্টে ক্যান্সার হলেও তার লক্ষণ বাহুমূলেও ফুটে উঠতে পারে। তাই এই অংশে বড় বড় গ্ল্যান্ড ফুলে উঠলেও সাবধান হতে হবে।

যে কোনও বয়সে, যে কোনও নারীদের স্তন ক্যান্সার হতে পারে।বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্যান্সারের কোনও পারিবারিক ইতিহাস থাকে না।
তবে যাদের পরিবারে আগে এই রোগ হয়েছে, সেখানে অনেক সময়ে একটা ‘ক্লাস্টার’ দেখা যায়। অর্থাৎ যার এই অসুখ হয়েছিল তার বোন-মেয়ের মধ্যে বা দু’-এক প্রজন্ম পরের বংশধরদের মধ্যে আবার রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা যেতেই পারে।
তাই এমন পরিবারের মানুষকে একটু বেশি সচেতন থাকতে হবে। কিন্তু তাই বলে, যাদের পরিবারে আগে এই রোগ ছিল না, তারা খুব নিশ্চিন্ত থাকবেন এমনটা একেবারেই নয়। প্রত্যেককেই খুব সাবধান হতে হবে।
কারো যদি বারো বছরের আগে পিরিয়ড হয় এবং দেরিতে মেনোপজ বা পিরিয়ড বন্ধ হয়, তারাও ঝুঁকিতে থাকেন।
তবে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হরেও আতঙ্কিত হওয়া যাবেনা।খুব তাড়াতাড়ি ধরা পড়লে, এ রোগকে দমিয়ে রাখা যায়। এমনকি আর্লি ডায়াগনসিস-এ অনেক সময়ে স্তন বাদও দিতে হয় না। স্তনের আকৃতিরও পরিবর্তন হয় না। চিকিৎসার খরচও কমে।








