মুন্সিগঞ্জে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগে গ্রেপ্তার স্কুলশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের অবলিম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে: রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে ঘোলা জলে মাছ শিকারের জন্য সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে একটি মহল অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। হৃদয় মণ্ডলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা এরই অংশ।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। সেখানে সাক্ষর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া।
বিবৃতিতে বলা হয়: পরিকল্পিতভাবে ধর্ম অবমাননার দায়ে ফাঁসিয়ে মুন্সিগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। শিক্ষক সমিতি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে৷ একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছে। হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল ২১ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এমন প্রবীণ একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মাধ্যমে মামলা করানো হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া তড়িঘড়ি করে জামিন–অযোগ্য ধারায় মামলা করাও রহস্যজনক। হৃদয় মণ্ডলের জামিনের শুনানিকালে এখন জামিন দিলে জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি উদ্বেগজনক। যেকোন নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
আরও বলা হয়: শিক্ষকের শিক্ষাদানের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এ ধরনের অপতৎপরতা সমূলে উৎপাটন করা না গেলে যেকোনো শিক্ষকের পক্ষে স্বাধীনভাবে শ্রেণিশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় সমিতি।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ২২ মার্চ মামলা হয়। ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২৩ মার্চ ও ৪ এপ্রিল আদালতে হৃদয় মণ্ডলের জামিন চাওয়া হলেও আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।









