চট্টগ্রাম থেকে: ভালো শুরুর পরও ইনিংস লম্বা করতে পারছিলেন না। সমস্যা কাটিয়ে ওঠার আগেই হারালেন ফর্ম। সৌম্য সরকার পরে আবারও রানে ফিরেছিলেন। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন না। ৪ ম্যাচে করলেন মাত্র ৩৪ রান। বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাটিং নিয়ে তাই খুব কথা হচ্ছে ইদানীং। বেশি আক্রমণাত্মক হওয়াতেই এমনটা হচ্ছে কিনা কানাঘুষা আছে সেটি নিয়েও। তবে বাইরে যত কথাই হোক; কোচরা সৌম্যকে আগলেই রাখছেন।
সৌম্যর ব্যাটিং নিয়ে বেশি যত্নবান প্রধান কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। অনুশীলনে সৌম্যকে নিয়ে খাটেন সবচেয়ে বেশি। তরুণ শিষ্যের প্রতি অগাধ আস্থা তার। সঙ্গে ব্যাটিং পরামর্শক হয়ে আসা মার্ক ও’নিলের পর্যবেক্ষণ, সঠিক পথেই আছেন সৌম্য।
মাইকেল স্ল্যাটার, স্টিভ ওয়াহ, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাইকেল ক্লার্ক, শেন ওয়াটসনদের মতো ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন ও’নিল। তার ছোঁয়ায় বদলে গেছে কত ব্যাটসম্যানের ভাগ্য। এই অস্ট্রেলিয়ান কদিন ধরেই নেটে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সৌম্যর ব্যাটিং। অনেকেই ধারণা করেছিলেন সৌম্যকে রানে ফেরাতে হয়তো ব্যাটিংয়ের ধরণ কিছুটা পাল্টে দেবেন তিনি। আশার কথা, সৌম্যর ব্যাটিং টেকনিকে কোনও সমস্যা দেখছেন না ৫৮ বছর বয়সী এই ব্যাটিং স্পেশালিষ্ট কোচ।
রোববার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলনের বিরতিতে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ও’নিল বলে গেলেন, ‘মারার বল পেলে মারতেই হবে। ব্যাটিং কোচ হিসেবে কোনোভাবেই কারও সহজাত খেলা বদলাতে চাই না আমি। আমার কাজ হল ওরা যেটা ভালো করে, সেটাই ধারাবাহিকভাবে যেন করতে পারে। সেটা করতে গিয়ে ঝুঁকি যেন কম নেয়। বাজে শট যেন কম খেলে। এটাই। সৌম্যর টেকনিকে কোনও সমস্যা দেখি না।’

অল্প কয়েকদিনেই দলের সব ব্যাটসম্যান ও বোলারের ব্যাটিং দেখা হয়ে গেছে ও’নিলের। মোটামুটি একটা ধারণাও হয়ে গেছে সবার সম্পর্কে। তার পর্যবেক্ষণ খুবই ইতিবাচক। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিশ্বমানেরই বলছেন তিনি। ক্রিকেটাররা মনে এই বিশ্বাসটা স্থাপন করতে পারলে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফর সহজ হবে না বলেই উপলব্ধি ও’নিলের।
‘দলের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই বিশ্বের যেকোনো দলের মতোই ভালো। বেশিরভাগ সময় মাঝ ব্যাটেই খেলে। যেখানে মারতে চায়, মারতে পারে। ব্যাপারটা হল মানসিকতার, ওরা যেন বিশ্বাসটা করতে পারে যে ওরা বিশ্বমানের। ওরা যদি ততটা আত্মবিশ্বাসী হতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়াকে সামর্থ্যের দারুণ পরীক্ষা দিতে হবে।’







