আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে সৌদি আরব, মিশর ও ইরান সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর।
সফরের প্রথম দিন আজ সৌদি আরব যাবেন জিনপিং। সর্বশেষ ২০০২ সালে কোনো চীনা প্রেসিডেন্ট সৌদি সফর করেছিলেন।
এর পর মিশর এবং সর্বশেষ ইরান হয়ে দেশে ফিরবেন তিনি। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম কোনো চীনা প্রেসিডেন্ট সৌদি আরব সফর করছেন।
জিনপিং এমন সময় মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন যখন একজন শিয়া নেতাকে ফাঁসি দেওয়া নিয়ে দুই আঞ্চলিক পরাশক্তি সৌদি আর ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে দুদেশ।
জিনপিংয়ের মধ্যপ্রাচ্য সফর সামনে রেখে চীনের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাং মিয়াং সাউথ চায়না মনিং পোস্টকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন সবসময়ই একটা মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। মধ্যপ্রাচ্য তো বটেই, চীন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্যেও সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমরা আহ্বান জানিয়েছি।’
জাং নিজেও গত মাসে সৌদি আরব ও ইরান সফর করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট উভয় দেশের নেতাদের সঙ্গে নিজের মত বিনিময় করবেন।
আগামী ৫-১০ বছরের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক করতে চায় চীন। সেই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্য তাদের।
সৌদি-ইরানের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে আরেক শক্তি মিশর সফরেও যাবেন জিনপিং। বেইজিংয়ে নিযুক্ত মিশরীয় রাষ্ট্রদূত এর আগেই অবশ্য বলেছেন, বন্দর উন্নয়নের জন্য চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে চীন।
তবে কোনো চুক্তি সম্পর্কেই বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আশা করা হচ্ছে, চীনা প্রেসিডেন্টের চীন সফরের সময়ই এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোলাসা করা হবে।






