দীর্ঘদিন পর সৌদি আরবের শ্রম বাজার পুরোপরি উন্মুক্ত হওয়াকে স্বাগত জানালেও দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে শংকা শ্রমিক অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর। তারা বলছেন, চাহিদা যাচাই করে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে লোক পাঠানো উচিত। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছেন, কম অভিবাসন ব্যয়ে লোক পাঠানোর উপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
২০০৮ সালের পর বাংলাদেশ থেকে বেশি সংখ্যক শ্রম অভিবাসী পাঠানোর বন্ধ ছিলো অলিখিত ভাবে। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অবশেষে শ্রম বাজার উন্মুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে শ্রম অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গুলো। তবে দালাল-প্রতারকদের নিয়ে শংকিত তারা।
বাংলাদেশী অভিবাসী নারী শ্রমিক এসোসিয়েশনের পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘মার্কেট অ্যানালাইসিস না করে, কি করে সরকার সিন্ধান্ত নিচ্ছে যে সে এখন বিদেশে লোক পাঠাবে। শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়ে গেছে, এটা বলার মানে সঙ্গে সঙ্গে দালালরা মাঠ থেকে টাকা কুড়ানো শুরু করবে। গরিব মানুষগুলো জমি বিক্রি করে দালালকে টাকা দেয়া শুরু করবে। কারণ বলা হচ্ছে সৌদি আরবে বাজার উন্মুক্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন আরো, ‘সৌদি আরবে আসলেই বাজার উন্মুক্ত হয়েছে কিনা, কতগুলো এজেন্সি লোক নেবে, কতজনকে নেবে, কোন কোন সেক্টরে কাজ করবে, কত টাকা দেবে এগুলো না জেনে গরিব মানুষ নিয়ে এই ব্যবসা বন্ধ করা উচিত।’
তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, দীর্ঘ সময় পর উন্মুক্ত হওয়ায় তারা সৌদি শ্রম বাজার নিয়ে সবচেয়ে বেশি সর্তক থাকবেন। তবে সরকারী কর্মসংস্থান অফিসে যাচাই না করে কাউকে টাকা না দেয়ার আহ্বান মন্ত্রণালয়ের।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘সৌদি সরকার চায় বৈধ নিয়োগ হোক, আমাদের সরকারও সেটা চাই। বাংলাদেশ সরকার আরো চায় এখানে যেন লোকজন হয়রানি না হয়, অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করে। এই ব্যাপারে সরকার খুবই সতর্ক।’
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারী তদারকিতে বেসরকারী বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সীগুলো চাহিদা অনুযায়ী সৌদি আরবে লোক পাঠাবে।








