কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কূল-ঘেঁষা দ্বীপ সোনাদিয়া। সাগর বুকে সৃষ্টির সব সৌর্ন্দয্য দিয়ে সাজানো এক বালুময় ভূ-স্বর্গ।
কক্সবাজারের কস্তুরী ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এগিয়ে চলা। পাশ দিয়ে চলে যায় ছোট বড় নৌকা। দেখা মেলে ঝাঁক ঝাঁক গাঙচিলের। কিছুক্ষণ পর একটি চ্যানেলে প্রবেশ, দুপাশে ঘন ম্যানগ্রোভ। ভাটা পড়ে যাওয়ায় সোনাদিয়া দ্বীপের অনেক আগেই নামতে হয় নৌকা থেকে। কাদা পানিতে অনেকটা হেঁটে দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাওয়া।
সময়টা গ্রীষ্মকাল। বেশ গরম। এর মধ্যে অনেকটা পথ হাঁটার কষ্ট হলেও সোনাদিয়া দ্বীপে আসতে পেরে বেশ খুশি পর্যটকরা।
তেষ্টা মেটাতে দ্বীপের সুস্বাদু ডাবের পানি। বিশাল ঝাউ বনের এক পাশে বন অফিস এবং এর পাশে ১৩০ জেলে পরিবারের বসবাস। সেখানেই দুপুরের খাবার। এর মধ্যে বেলা পড়ে আসায় রাত যাপনের জন্য তাবু টাঙানো হলো। সমুদ্র তীরে সুর্য অস্ত যাওয়ার মনোরম দৃশ্য। বীচে লাল কাকড়ার আনাগোনা। এই সৌন্দর্য দেখতে দেখতেই সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ে ঝাপাঝাপি করার লোভ সামলাতে পারেননি অনেকেই।

সন্ধ্যায় তাবুর পাশে ক্যাম্প ফায়ার। পাশে চলে রাতের খাবার তৈরির আয়োজন। আড্ডা আর খাবারের পর্ব শেষে ঘুমের আয়োজন। দূর থেকে ভেসে আসে সমুদ্রের গর্জন। দারুণ এক অভিজ্ঞতা। খুব সকালে জেলে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকে সমুদ্র তীরে চিংড়ি পোনা ধরায়। এর একটু দূরেই কাছিমের ডিম ফোটার নিরাপদ এলাকা। এপ্রিলে শেষ সময় হলেও ভাগ্যে থাকলে দেখা মিলতে পারে কাছিমের ডিম।

সকালের মনোরোম পরিবেশ যেন বিদায় নেয় সূর্য উঠার সাথে সাথেই। সেই সময়ে শুরু হয় জোয়ার। বিদায় নেওয়ার সঠিক সময়। সকালের নাস্তা শেষে দ্রুত তাবু গুটিয়ে একে একে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় উঠা, ফিরে চলা কক্সবাজারের দিকে। তখন স্মৃতিতে শুধুই সোনাদিয়া দ্বীপের সৌন্দর্য।








