বিনোদন

‘সোনালি অতীতের একফালি রোদ জাতির গায়ে মাখাতে চাই’

‘কাজলরেখা’ নির্মাণের প্রেক্ষাপট নিয়ে গিয়াস উদ্দিন সেলিম

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

চ্যানেল আই অনলাইন এর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন, বিভিন্ন পোশাক পরা।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

১১ বছর আগে ‘কাজলরেখা’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন ‘মনপুরা’ খ্যাত নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। আর্থিক কারণে তখন তিনি ছবিটি বানাতে পারেননি। তবে এবার সরকারি অনুদান পাওয়ায় ছবিটি শুটিংয়ে গড়াচ্ছে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে নেত্রকোনার দূর্গাপুর এলাকায় শুটিং হতে যাচ্ছে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের এ ছবির।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘কাজলরেখা’ ছবি নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। তিনি জানান, এত বছরের ক্যারিয়ারে এই প্রথম তিনি তার ছবির ঘোষণায় ‘মিট দ্য প্রেস’ করলেন।

সেখানে গিয়াস উদ্দিন সেলিমসহ উপস্থিত ছিলেন ‘কাজলরেখা’র গুরুত্বপূর্ণ সব চরিত্র ও কলাকুশলীদের একাংশ। কাজলরেখা চলচ্চিত্রে কে কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন, সংবাদ সম্মেলনে তা পরিচয় করিয়ে দেন এই চলচ্চিত্রের নির্বাহী প্রযোজক জুয়েইরিযাহ মউ।

এসময় নিজেদের চরিত্রের প্রস্তুতি ও কাজলরেখা চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়া নিয়ে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন মিথিলা, শরিফুল রাজ, আবুল কালাম আজাদ, মন্দিরা চক্রবর্তী, ইরেশ যাকের প্রমুখ।

গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, আমরা সমৃদ্ধশালী জাতি ছিলাম সেটা এই ছবিতে দেখাতে চাই। অতীতে আমরা কেমন কাপড় পরতাম, আমাদের স্থাপত্য কেমন ছিল, মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রাচ্যরীতি কী ছিল- সবকিছু জাতির সামনে তুলতে ধরতে চাই। এসব কিছুর সাথে ‘কাজলরেখা’র মাধ্যমে আমাদের সোনালি অতীতের একফালি রোদ জাতির গায়ে মাখাতে চাই।

চ্যানেল আই অনলাইন এর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ও অতিথিরা উপস্থিত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ তিনি বলেন, ৪০০ বছর যা কিছু ছিল সবকিছু সেট হিসেবে বানাতে হচ্ছে। নরমাল যে বাজেটে ছবি হয় তার থেকে তিনগুন বেশি বাজেট লাগছে। আমাদের সেট বানাতে বর্তমানে ৪০ জন গারো এবং হাজং কাজ করছেন। প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইফুল হক। তিনি বঙ্গীয় আর্ট সম্পর্কে দীর্ঘদিন গবেষণা করে যাচ্ছেন। ‘পুন্ড্রনগর টু শেরেবাংলা’ তার একটি বইও আছে। তার মতো বিজ্ঞ আর্কিটেক দিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি ঠিকভাবে শেষ হবে।

৪০০ বছর আগের প্রেক্ষাপট তুলে আনা কতটা চ্যালেঞ্জ? জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, কঠিন ব্যাপার হচ্ছে কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য চিন্তায় রাতে ঘুম হচ্ছে না। গত চারমাস ধরে এটা নিয়ে শুটিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। কোনো কিছু তৈরি ছিল না। সবকিছু ধরে ধরে বানাতে হয়েছে। ফাইনালি আগামী এপ্রিলের শুরুতে আমরা শুটিংয়ে নামবো।

পরিচয় বহুদিনের হলেও ‘কাজলরেখা’ মাধ্যমে প্রথমবার গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নির্দেশনায় কাজ করতে যাচ্ছেন মিথিলা। তিনি বলেন, এমন কিছু করতে চাই যে চরিত্রে আমাকে কখনও কেউ ভাববে না। কাজলরেখায় আমি ভিলেন চরিত্র করছি। প্রধান ভিলেন চরিত্রটি করা আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং, যদিও আমার চেহারায় একটা অবলা ব্যাপার আছে।

কাজল রেখায় ‘কঙ্কণ দাসী’র চরিত্র নিয়ে পর্দায় হাজির হচ্ছেন মিথিলা। তিনি বলেন, চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। এটি প্রাচীন ময়মনসিংহ গীতিকার একটি রূপকথা। পুরোটাই আমাদের প্রাচীন সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। গল্পটা ছোটবেলা থেকে জানি। যখন গল্প শুনি এটা থেকে সিনেমা হচ্ছে তখন নিজের মধ্যে কৌতূহল জন্মায়।

‘কাজলরেখা’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। ২০১২ সালে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন তিনি। প্রথম সিনেমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোটবেলা ‘মনপুরা’ দেখেছিলাম। তখন থেকে পরিচালক সেলিম ভাইয়ের প্রেমে পড়েছি। তার মাধ্যমে প্রথমবার সিনেমা করতে যাচ্ছি। একটু ভয় পেলেও মনে হচ্ছে আমার স্বপ্নটা দ্রুত সত্যি হতে যাচ্ছে।

বিষয়:আজাদ আবুল কালাম আবুল কালাম আজাদ ইরেশ যাকের কাজল রেখা গিয়াস উদ্দিন সেলিম নেত্রকোনা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…