শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সেলিম ওসমানসহ দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না জানতে চেয়ে স্বপ্রণোদিত রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কি কি ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে, ৩ দিনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। এ ছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসীন রশিদ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষক লাঞ্ছনা-সংক্রান্ত সংবাদ আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেন।
‘ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তির’ অভিযোগে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের কল্যাণদির পিয়ার সাত্তার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সেলিম ওসমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে কান ধরে ওঠ-বস করান। এর আগে ওই শিক্ষককে মারধরও করা হয়।
ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতের কথা বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে। কিন্তু সেই রিফাতই বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে ধর্ম নিয়ে ওই শিক্ষকের কটূক্তি করার কথা অস্বীকার করে।
পুলিশ ওই ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে না পাওয়ার দাবি করলেও দণ্ডবিধি অনুসারে একে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।








