নেতৃত্বের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখে সেনাসদস্যদের সকল কাজে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার। রোববার বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দফতরে স্বতন্ত্র প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৪০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা সর্বোচ্চ দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়নতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নেবেন। আমার প্রত্যাশা আপনারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাপূর্ণ বাহিনীতে পরিণত করবেন।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি আশা করি, আপনারা তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত অনুশীলন চালিয়ে যাবেন।
স্বতন্ত্র প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, যার দূরদর্শিতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। কালের পরিক্রমায় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট আজ একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। দক্ষ নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনাম সর্বজনবিদিত।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে এ রেজিমেন্টের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দায়িত্বপালনকালে প্রতিদিনই গার্ডস সদস্যদের সাথে আমার দেখা হয়। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে আপনারা বিশ্বস্ততা, আনুগত্য, শৃংখলা ও পেশাদারিত্বের সাথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এটা আমাকে আশ্বস্ত করে, মুগ্ধ করে।
‘আপনারা সকলেই বিশেষভাবে নির্বাচিত এবং সু-প্রশিক্ষিত। আপনাদের কর্মদক্ষতা, কর্তব্যপরায়ণতা ও একাগ্রতাই এর প্রমাণ।’
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২০১৬ সালের মধ্যে দুইটি এফএম-৯ সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল রেজিমেন্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হবে।
শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের স্থান বর্তমানে প্রথম। বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৫৯৩ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের ১০টি দেশে মিশনে অংশগ্রহণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার আপনাদের কল্যাণে এসকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যাতে আপনাদের চাকরি ও পারিবারিক জীবন স্বাচ্ছদময় হয়। দেশ ও জাতির সেবায় আপনারা যাতে আরো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত হন।
প্রধানমন্ত্রী সেনাবিহনীর পূর্বসূরী যারা কর্তব্য পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে এ রেজিমেন্টের ইতিহাসকে গৌরবোজ্জ্বল করেছেন এবং আমি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আপনাদের একাগ্রতা ও আত্মোৎসর্গের মনোভাব যেন চিরদিন বজায় থাকে এ প্রত্যাশা করছি।
ভারপ্রাপ্ত কমান্ডডেন্ট কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।







