সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া ‘সেনানিবাস আইন’-্এর খসড়ায় ভিক্ষাবৃত্তি ও প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগের মতো জনবিরক্তির শাস্তি হিসেবে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, কেউ প্রকাশ্যে মাংস বহন করলে এবং বিকলাঙ্গতা দেখালেও সমান শাস্তি হবে।
তবে, আইনজীবীরা বলছেন: সেনানিবাসের বাইরে সাধারণ এলাকায় এসব জনবিরক্তিকর কর্মকাণ্ডের জন্য সুর্নিদিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। চাইলে দণ্ডবিধির আওতায় অবশ্য শাস্তি দেওয়া যায়।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খুরশীদ আলম খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি ও প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ করা ও বিকলাঙ্গতা দেখানোর জন্য সুর্নিদিষ্ট শাস্তির বিধান দণ্ডবিধিতে নেই। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দ্বারা সৃষ্ট উপদ্রব যদি জনমনে ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে তাহলে সে বিষয়টি দণ্ডবিধির আলোকে শাস্তির সুযোগ রয়েছে।
অনেকে বলছেন: সাধারণ পাবলিক প্লেসে যে জাতীয় উপদ্রবের জন্য সরাসরি শাস্তির বিধান নেই, সেগুলোর জন্য সেনানিবাস অাইনে কেন সরাসরি শাস্তির কথা বলা হয়েছে? অথবা, সেনানিবাসে যে জনবিরক্তির জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান, সে জাতীয় উপদ্রব সাধারণ জায়গার জন্য কেন একইরকম শাস্তিযোগ্য হবে না?

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: সেনানিবাস এলাকাগুলোতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য আগে থেকেই শাস্তির বিধান ছিল। তবে পুরাতন শাস্তি যেন অবমূল্যায়ন না হয় সেজন্য নতুন শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
‘কারণ সেনানিবাসে সেনাবাহিনীদের স্বাস্থ্যগত অনেক ব্যাপার কাজ করে। শৃঙ্খলা ওই এলাকার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেনানিবাসে সবচেয়ে বেশি শাস্তির আওতায় আনা হয় ট্রাফিক আইন অমান্যের মত বিষয়।
সেনানিবাস এলাকা ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যেহেতু সরাসরি শাস্তির বিধান নেই তাই তার মতো অনেকে মনে করেন, কর্মকাণ্ডগুলো যখন অতিমাত্রায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে তখন অবশ্যই তা শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

তবে, জেনারেল রশিদ শুধু শাস্তি নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং চর্চা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন: এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণ কী? এ প্রশ্লের উত্তর অামাদের সবাইকে খুুঁজে বের করতে হবে। ‘নিজের কথা ও অন্যের কথা চিন্তুা করেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবার বিরত থাকা উচিত।’
সম্প্রতি মন্ত্রিসভা বৈঠকে সেনানিবাস আইন, ২০১৭-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান: ১৯২৪ সালের ‘ক্যান্টনমেন্টস অ্যাক্ট’কে পুনর্বিন্যস্ত করে নতুন এ আইন হচ্ছে। ৯৩ বছর আগে নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ এ আইনে বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধের বিপরীতে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে ২০ হাজার গুণ পর্যন্ত।
তিনি জানান: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অধীন এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্য করলে আগে ৫০ টাকা জরিমানা হতো। সংশোধনীতে এটি বাড়িয়ে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ আইনে সেনানিবাস এলাকায় কেউ মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি ও মলমূত্র ত্যাগ করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সেনানিবাস এলাকায় খোলা মাংস বহনের শাস্তি হিসেবে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকা এক ধরনের পৌর ব্যবস্থাপনার মতো উল্লেখ করে তিনি জানান, পৌরসভা যেভাবে তাদের এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকে, এটিও সেভাবে ব্যবস্থাপনার কাজটি করবে। বোর্ডের কার্যক্রম কেমন হবে, এ আইনে তো বলা হয়েছে।






