অবশেষে হাসল সৌম্য সরকারের ব্যাট। খরা ঘোচানোর দিনে দেড় শতাধিক রানের ইনিংস খেলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এ ওপেনার। বুধবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনে রেলিগেশন লিগের ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে ১৫৪ রান করেন সৌম্য। তার ব্যাটিং তাণ্ডবে রানের পাহাড় গড়ে অগ্রণীও।
দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাটে রান পাচ্ছিলেন না সৌম্য। আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া, কোনো ফরম্যাটেই তার ব্যাট কথা বলছিল না। ডিপিএলের শেষপর্বে এসে হাসল সেই ব্যাট। খেললেন রাজকীয় এক ইনিংস। ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে ১২৭ বলে করেন ১৫৪ রান। ১০৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর শেষ ২০ বলে করেন ৫৪ রান। তার ইনিংসে চারের চেয়ে ছক্কার মার বেশি। ৯ চারের বিপরীতে ১১টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন সৌম্য।
লিস্ট ‘এ’তে এতদিন এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১টি ছয় মেরে রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছিলেন টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এবার ব্রাদার্সের বিপক্ষে ১১ টি ছয় মেরে মাশরাফীর গড়া রেকর্ডে ভাগ বসালে সৌম্য।
ঘরোয়া ক্রিকেটে সৌম্যর সর্বশেষ সেঞ্চুরি ২০১৫ বিসিএলে। ওই বছরের ২৪মে, দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে সেই ম্যাচে উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ১২৭ রান করেছিলেন। আর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তার সর্বশেষ সেঞ্চুরি ২০১৪ সালে। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া মিলিয়ে প্রায় তিন বছর পর সেঞ্চুরি করলেন সৌম্য। দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলা সৌম্য সবশেষ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেন ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন শাহরিয়ার নাফীসের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে সৌম্য তোলেন ৪৪ রান। ২৪ রান করে আউট হন নাফীস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সালমান হোসেনের সঙ্গে আরো ৪০ রানের জুটি। ২৩ রান করে সালমান ফেরার পর দ্রুত ফেরেন শামসুল ইসলামও (১)। ধীমান ঘোষ আউট হন ২৫ রান করে।
তবে একপাশ আগলে রেখে ব্যাট চালিয়ে যান সৌম্য। তাকে সঙ্গ দেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান ঋষি ধাওয়ান। সঙ্গীর অভাবে সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৫ বলে ৯টি চার ও এক ছক্কায় ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন।
অগ্রণীর স্কোরবোর্ড আরো সমৃদ্ধ হতে পারত। যদি তাদের শেষদিকের ব্যাটসম্যানরা রান পেতেন। অগ্রণীর চারজন ব্যাটসম্যান হিসাবের খাতাই খুলতে পারেননি। তাই ৫ বল বাকি থাকতে ৩৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।
ব্রাদার্সের হয়ে সোহরাওয়ার্দী শুভ ও সাখাওয়াত হোসেন নেন তিনটি করে উইকেট।








