চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে এএস রোমাকে ন্যু ক্যাম্পে আতিথ্য দেবে বার্সেলোনা। ম্যাচে স্বাগতিকরা শক্তিশালী এবং ফেভারিট! উল্টো মতও আছে ফুটবল বিশ্লেষকদের, বার্সার মাঠে চাপের মুখে কিছু একটা করে দেখাতে পারে রোমাও। স্প্যানিশ ও ইতালিয়ান জায়ান্টদের জমজমাট ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১২টা ৪৫মিনিটে।
বুধবারের প্রথম লেগ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই জায়ান্টের পঞ্চম সাক্ষাত। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান সমানে সমান। যদিও সবশেষ সাক্ষাতের স্মৃতিটা রোমার জন্য মোটেও সুখকর নয়। ২০১৫-১৬ মৌসুমে গ্রুপপর্বে ন্যু ক্যাম্পে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে ফিরেছিল ইতালিয়ানরা। তারপর এই প্রথম দেখা হতে যাচ্ছে, সেটিও ন্যু ক্যাম্পেই।
কাতালানদের বিপক্ষে এই পর্বে অনুকূল ফলাফলের কোনো আশা করলে রোমাকে সম্ভবত আত্মরক্ষামূলক মাস্টার ক্লাস পরিকল্পনাই আগলে রাখতে হবে। কারণ, দুর্দান্ত ফর্মে আছে বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখনো অপরাজিত কাতালানরা।
রোমার জন্য একটু স্বস্তিও আছে, কারণ হতে পারে লিগে বার্সার শেষ ম্যাচের ফলাফল। সেভিয়ার বিপক্ষে হারতে হারতে শেষ মুহূর্তে কোনমতে ড্র করেছে কাতালানরা। যদিও ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়াকেও একদিক থেকে আতঙ্কের মনে হতে পারে রোমার কাছে।
রোমা নিজেদের আতঙ্ক কাটাতে পারে নিজেদের সাম্প্রতিক ফর্মের দিকে তাকিয়েও। বেশ ছন্দে আছে দলটি। সবশেষ আট ম্যাচের মধ্য জয় পেয়েছে ছয়টিতে। তবে লিগের শেষ ম্যাচের ফলাফলটা আবার বার্সার মতোই। বোলোগনার সঙ্গে শেষ মুহূর্তের গোলে কোনো রকমে ড্র করেছে সিরি আয়।
শেষ ষোলোতে স্টামফোর্ড ব্রিজের প্রথম লেগের খেলায় ১-১ সমতায় থাকার পর চেলসিকে নিজের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেস্কের বিপক্ষে শুধু অ্যাওয়ে গোলের সুবিধে নিয়ে শেষ আট নিশ্চিত হয় রোমার।

বার্সার বিপক্ষে ম্যাচে রোমার সমর্থকদের জন্য অস্বস্তি হতে পারে আরও একটি কারণ। ২০১৫-১৬ মৌসুমের লিগপর্বের ম্যাচের ছবি সেটাই বলে। ৬-১ গোলে জেতা ম্যাচে ইতালিয়ানদের নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছিলেন মেসি-নেইমাররা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি ও সুয়ারেজ। জাল খুঁজে পেয়েছিলেন জেরার্ড পিকে এবং আদ্রিয়ানোও।
শুধু গোল নয়, সেই ম্যাচে বার্সার বল দখলের হার ছিল শতকরা ৭১ ভাগ। গোলমুখে শট নিয়েছিল ১৯টি। যার ১২টিই অনটার্গেট। আর ৭৭৫টি সফল পাস দিয়েছিলেন বার্সা ফুটবলাররা। যা প্রতিপক্ষে চেয়ে দ্বিগুণ।
রোমার জন্য দুঃসংবাদ বেড়েছে ম্যাচের আগেও। সেটা, লিওনেল মেসির সঙ্গে সার্জিও বুসকেটসও সুস্থ হয়ে ওঠা। মেসি দুটি আর্ন্তজাতিক প্রীতি ম্যাচ মিস করার পর সেভিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশেও ছিলেন না। তবে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করে দলকে হারের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।
চেলসির বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েছিলেন বুসকেটস। প্রথমে ইনজুরি বেশ মারাত্মক মনে হলেও অনুশীলনে ফিরেছেন। এখন রোমা ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে বলেই জানিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
তবে বুসকেটস শেষপর্যন্ত ফিরতে না পালেও মেসি ফেরায় স্বতিতে বার্সা। দলে আরো তারকা খেলোয়াড় থাকলেও মেসির উপরই নির্ভরতা তাদের। যদিও কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে জানিয়েছেন, ‘মেসিকে পুরে ফিট না পেলে বিকল্প চিন্তা করবেন তিনি।’
ফিট মেসিকে নিয়ে আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন রোমা ফরোয়ার্ড স্টিফেন এল শারাওয়িও, ‘ফিট মেসি সবসময়ই আতঙ্কের। সে যখনই বল পায়, তখনই কিছু একটা করে বসে। তবে তাকে আটকানোর সবরকম চেষ্টা আমরা করে যাব।’

মেসি দলে না থাকলে বার্সার কি হাল হয় সেটা সেভিয়া ম্যাচেও টের পাওয়া গেছে। তার আগে কোপা ডেল রের যে ম্যাচে মেসিকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল, সেই ম্যাচে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে প্রথম লেগে ১-১এ ড্র। দ্বিতীয় লেগে মাঠে নেমে দুই গোল করেন এলএম টেন। আর বার্সা ম্যাচ জেতে ৫-০ গোলে। মেসিকে ছাড়া এই মৌসুমে পাঁচ ম্যাচ খেলেছে বার্সা, যার মধ্যে দুটি জয়, আর ড্র করেছে তিনটিতে।
রোমা ম্যাচ সামনে রেখে মেসিকে নিয়ে ভালভার্দে বলেছেন, ‘না, আমরা এটা নিয়ে (মেসির ইনজুরি) খুব চিন্তিত নই। তবে মেসিসহ বা মেসি ছাড়া সব ম্যাচের পার্থক্যই অনেক বেশি। এ ব্যাপারে আমরা কি করতে পারি?’
ইনজুরি সমস্যা আছে রোমারও। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার রাডজা নিংগোলান বোলোগনা ম্যাচেই চোট পেয়েছেন। ডাচ তারকার বার্সা ম্যাচ মিস করার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও সোমবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। অনিশ্চয়তা রয়েছে আরেক মিডফিল্ডার লরেঞ্জো পেল্লেগ্রিনিকে নিয়েও। প্রীতি ম্যাচ খেলার সময় চোট পেয়েছেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে অবশ্য বার্সাকে ফেভারিট বলায় স্বস্তি অনুভব করছেন রোমা কোচ। এটাকে সত্য মেনে নিলেও কিছুটা প্রচ্ছন্ন হুমকিও এসেছে দলটির থেকে, ‘সবাই বলে আমরা ফেভারিট নই। এটা সত্যি। তবে সবাইকে মনে রাখতে হবে ম্যাচটা ১৮০ মিনিটের। আমরা বার্সায় ভাল ফলাফল করার চেষ্টা করব। সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে পরেরটা আমাদের হোম লেগ।’







