দেশের ৬টি জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, তাদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা চিফ মেট্রোপলিটন বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিতই থাকছে। তবে এ সংক্রান্ত রিটটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালতের দেয়া আদেশটি চলমান থাকবে বলে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বিভাগ আজ রোববার আদেশ দেন।
সেই সাথে বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে রিটটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আর রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাসের করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৮ অক্টোবর রুলসহ আদেশ দেন।
হাইকোর্ট তার আদেশে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, রংপুর জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, তাদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা চিফ মেট্রোপলিটন বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
আর হাইকোর্ট তার রুলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পূজা মণ্ডপ, ঘর-বাড়ীতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চান।
এছাড়া তাদের সম্পত্তি এবং উপাসনালয় সুরক্ষার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এবং কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, রংপুর জেলার চিফ মেট্রোপলিটন বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে কেন ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হবে না, রুলে তাও জনতে চান হাইকোর্ট।
স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, ধর্মসচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি বিভাগ) সচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনি, চট্টগ্রাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
তবে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত করে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। সে অনুযায়ী বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির পর আদেশ দিলেন সর্বোচ্চ আদালত।








