সাউথ আফ্রিকা সফরের শেষ টি-টুয়েন্টিতে মনে রাখার মত তিনটি ওভার করেছিলেন শুরুতে। কিন্তু শেষ ওভারে এসে ডেভিড মিলারের তোপে সব গড়বড় হয়ে যায়। দুটি উইকেট পেলেও সেদিন ৫৩ রান খরচ করতে হয়েছিল সাইফউদ্দিনকে।
গত শনিবার বিপিএলেও একই দশা হয়েছে সাইফউদ্দিনের। দারুণ তিনটি ওভার করার পর ড্যারেন স্যামির তোপে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে তার স্পেলের শেষটা। চতুর্থ ওভার থেকে আসে ৩২ রান। টাইগার অলরাউন্ডার রাজশাহীর বিপক্ষে ৩ উইকেট পেলেও তাই খরুচেই থাকেন, ৫০ রান বিলিয়ে।
অল্পকদিনের ব্যবধানে এমন দুটি ধাক্কা, ২০ বর্ষী তরুণ সাউফউদ্দিন তারপরও মানসিকভাবে শক্তই আছেন। প্রোটিয়া সফরের ওভারটির কথা মনে করিয়ে দিলে বিপিএলের আগে বলেছিলেন, পরের ম্যাচে নতুন করে শুরু করবেন। এবার বিপিএলে আরেকবার পরীক্ষার আগে আগে বললেন, সেই ওভার ভুলেই পরের ম্যাচে নামবেন।
মঙ্গলবার খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে নামবে সাইফউদ্দিনদের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আগেরদিন কথা বলতে এলে গত ম্যাচের ওভারটি নিয়ে তার মাঝে আত্মবিশ্বাসের কোন ঘাটতি চোখে পড়ল না, ‘আমি মনে করি ওটা আমার খারাপ দিন গেছে। প্রথম তিনটা ওভার বেশ ভাল গেছে। একটা ওভার দুর্ভাগ্যজনকভাবে খারাপ হয়। আমি সবসময় ভালটাই মনে রাখি। প্রথম তিন ওভার মনে রেখেই পরের ম্যাচে খেলতে নামব।’
‘হাসান আলী ভাই অনেক অভিজ্ঞ, আর পাশাপাশি ওয়াকার ইউনুস পেস বোলার হিসেবে অনেক ভাল। শেখার তো আর শেষ নাই। আমি যতটুকু পারছি, শিখছি। কাজ করছি, আর সময় পেলে আরও কাজ করব। ভুলগুলো শোধরানোর চেষ্টা করব।’ নিজেকে প্রতিনিয়ত আরেকধাপ ওপরে তুলে নেয়ার কথা এভাবেই জানালেন অমিত সম্ভাবনার জানান দিয়ে রাখা এই পেস-অলরাউন্ডার।
সাউফউদ্দিন ভাল-মন্দের মিশেলের মধ্যে থাকলেও কুমিল্লা সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে। দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচ (৭টি) খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে ভিক্টোরিয়ান্সরা। ভাল সম্ভাবনা আছে কোয়ালিফায়ারে যাওয়ার। সাইফউদ্দিনও সেটাই মনে করছেন।
‘অন্য দলের চেয়ে আমরা কম ম্যাচ খেলছি। আমরা আশাবাদী। পরের দুইটা ম্যাচে ভাল খেললে আমরা টপ ফোরের মধ্যে থাকব। কালকে ম্যাচ নিয়েও আমরা আশাবাদী।’
ডেথ ওভারে বোলাররা এমনিতেই ভোগেন। টি-টুয়েন্টিতে তো আরও বেশি। সাইফউদ্দিনকে ওই সময়টাতেই বল করতে হচ্ছে অনেক। সেটিকে ইতিবাচক ভাবেই নিচ্ছে এই তরুণ। অল্প বয়সী কাঁধটার ওপর পরিণত এক ক্রিকেটারের মাথা থাকার প্রমাণই তাই মিলল পরের কথায়।
‘এটা আসলে এমন না যে আমি শুধু বিপিএল দিয়ে শুরু করছি। অনুর্ধ্ব-১৯ বলেন বা ১৭, সব সময়ই আমি ডেথ ওভারে বল করেছি। মানুষ আসলে সবসময় সফলতা পায় না। কিছুদিন হয়, কিছুদিন হয় না। আসলে এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নই। পরের ম্যাচে শতভাগ দেয়ারই চেষ্টা করব।’








