জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘বসগিরি-২’ ছবির একটি গান সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে। ‘আল্লাহ মেহেরবান’ নামে গানটি প্রকাশের পর থেকেই চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। অশ্লীলতা আছে বলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ইউটিউব থেকে গানটি নামিয়ে নেওয়ার দাবিও উঠেছে। ঘোষণা এসেছে আইনি লড়াইয়ের।
এরইমধ্যে যৌথ প্রযোজনার এই ছবির বাংলাদেশি প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়া দুটি আইনি নোটিশ পেয়েছে। নোটিশগুলোর জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।
‘আল্লাহ মেহেরবান’ নামের গানটি নিয়ে বিতর্ক হলেও ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশে একসময় ‘আল্লাহ মেহেরবান’ নামে একটি ছবি হয়েছে| সত্তর দশকের একদম শেষদিকে মুক্তি পাওয়া ‘আল্লাহ মেহেরবান’ ছবির পরিচালক ছিলেন মোহাম্মদ মহসিন। এতে টাইটেল গান করা হয়েছিল ছবির নামে। ছবিটি সুপারহিট হওয়ার পাশাপাশি গানটিও খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।
অনেকের প্রশ্ন: এখন তাহলে ‘আল্লাহ মেহেরবান’ নামে গানের সমালোচনার পাশাপাশি তা নিষিদ্ধের দাবি উঠছে কেন? তখনকার প্রেক্ষাপট থেকে এখনকার প্রেক্ষাপট কি বদলে গেছে? নাকি তখন সিনেমায় যে সামাজিক আবহ ছিল এখন আর তা নেই? তখনকার নির্মল বিনোদনের জায়গায় এখন কি অশ্লীলতা গ্রাস করে নিচ্ছে?
এসব বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইন কথা বলেছে ওই সময়ের ‘আল্লাহ মেহেরবান’ সিনেমার প্রযোজক আব্দুল আলীম এবং সংগীত পরিচালক আজাদ রহমানের সঙ্গে। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল পরিবর্তনটা ঠিক কোন জায়গায় ঘটেছে?
আবদুল আলীম, প্রযোজক
আব্দুল আলীম বলেন, ‘আল্লাহ মেহেরবান’ ছবিটি ১৯৭৯ সালের দিকে নির্মিত হয়েছিল। গল্পের সঙ্গে মিল রেখে ছবিটির নামকরণ হয়েছিল। ‘তখন কিন্তু আমাদের মনে হয়নি ছবিটি নিয়ে দর্শক কিংবা সুধীসমাজ থেকে কোন ধরনের আপত্তি আসতে পারে। বরং ছবি মুক্তির পর দারুণ প্রশংসিত হয়েছিলাম আমরা যারা এই ছবির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।
‘এটি সুপার ডুপার হিট হয়েছিল,’ উল্লেখ করে তিনি জানান: সিনেমাটিতে ‘আল্লাহ মেহেরবান’ নামে একটি গানও ছিল যেটা দর্শকরা খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছিলেন । শুধু তাই নয়, গানের কথাগুলো সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল।’
‘আল্লাহ মেহেরবান’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাজ্জাক, শাবানা, রোজিনাসহ কয়েকজন। ছোট একটি ছেলেও অভিনয় করে ওই ছবিতে। তার কণ্ঠে ছিল ‘আল্লাহ মেহেরবান’ গানটি।
‘আমরা ছবি ও গানটি নির্মাণের সময় ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য যেন বজায় থাকে সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। সবাই তো আর সেটি ধরে রাখতে পারে না। এখন আসলে উদ্দেশ্যেরই কোনো ঠিক নেই। আমরা মনে হয় তা পেরেছি। নয়তো সাধারণ মানুষ এত ভালোভাবে এ ছবিসহ গানটি নেয়ার কথা না। সবটাই সম্ভব হয়েছিল ছবির টিমওয়ার্কের জন্য।’
নির্মাণ পর্বেই এখনকার বিপরীত চিত্রের কথা জানিয়ে তিনি বলেন: এখনতো ছবির গল্পের সঙ্গে গান বা অনেক কিছুরই মিল পাওয়া যায় না। সবকিছু আজগুবি টাইপের, যার সর্বশেষ নির্দশন– আমাদের ছবির নামে কিছুদিন আগে প্রকাশ গানটিতে দেখা যায়। গানের কথা সঙ্গে এক্সপ্রেশন, লোকেশন, কোরিওগ্রাফি, পোষাক এসব কিছুর মিল তো নেই-ই উল্টো ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যতাও নষ্ট হয়েছে এতে।
‘কি বলব আর, ছবি এবং এর গান এখন যা হচ্ছে তা দেখে খুব কষ্ট হয়।’

আজাদ রহমান, সংগীত পরিচালক
সত্তর দশকের শেষদিকের ‘আল্লাহ মেহেরবান’ ছবির সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান বলেন, ছবির অনেক কিছুই ভুলে গেছি। কিন্তু যতটুকু মনে পড়ে তাতে ছবিটিতে ধর্মীয় বিষয়টি ঠিক রেখেই নির্মাণ হয়েছিল।
‘সেসময় বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিঁড়িতে এই গানটির কিছু অংশের দৃশ্যধারণ হয়েছিল। ছোট্ট একটি ছেলের লিপে গানটি গাওয়া হয়েছিল। গানটির গীতিকার ও সংগীত পরিচালক ছিলাম আমি। ছবির গল্প অনুসারে গানটি লিখতে হয়েছিল।’
আজাদ রহমান বলেন: শুধু এ ছবির গান নয়, গল্পের অনেক জায়গায় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের বেলায়ও আমি কাজ করেছি। আসলে সেসময় আমরা টিমওয়ার্ক করে কাজ করতাম। ‘আল্লাহ মেহেরবান’ও এমনি একটি টিমওয়ার্কের ফসল যার ফলাফল পেয়েছিলাম ছবিটি মুক্তির পর। দারুণ সাড়া পেয়েছিলাম দর্শকের কাছ থেকে।
তিনি বলেন: এখন যে ছবিগুলো হচ্ছে, তাতে টিমওয়ার্কের ছোঁয়া খুব কমই দেখা যায়। যার জন্য গল্প একদিকে, ছবি নির্মাণ আরেকদিকে। সংগীতের সুনিপুণতার কোনো ছোঁয়া নেই।
‘এজন্যইতো বাংলা চলচ্চিত্র অনেক অধঃপতনের দিকে গেছে।’
ছবি: সংগৃহীত








