আজ চৈত্র সংক্রান্তি। ঋতুরাজ বসন্তের শেষ দিন, তেমনি বছরের শেষ মাস চৈত্রেরও শেষ দিন আজ। সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে বিদায় নিলো আরও একটি বাংলা বছর। দিনটিকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের।
একইসাথে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। রোববার বছরের প্রথমদিন নতুন হালাখাতায় ক্রেতাদের বরণ করে নিবেন ব্যবসায়ীরা।
কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন, ‘‘এই পৃথিবী ক্লান্ত হয়ে, পশ্চিমে যায় ডুবে, আমরা ভাবি সময় গেল; নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখে, ফিরে তাকাই পুবে।’’
বাংলার বুকে আজ কবির কথার মতোই চৈত্রের শেষ সূর্য ধরা দেয়। বাঙালির জীবন ও লোকাচারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে চৈত্র সংক্রান্তি। পুরনোকে বিদায় জানিয়ে আগামীকাল সকালেই আসবে পহেলা বৈশাখের নতুন ভোর। নতুন আলো নতুন প্রত্যাশা। পুরনো বছরকে বিদায় জানানোর রীতির প্রচলন আছে এই বাংলায়। ঢাকাবাসীর র্যালির আয়োজন সে কথাই মনে করিয়ে দেয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চৈত্র সংক্রান্তির দিনটিকে অত্যন্ত পুণ্যের দিন বলে মনে করেন। আচার অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা পালন করেন বিদায় উৎসবের। দোকানপাট ধুয়ে-মুছে দূর করেন বছরের যত সব জঞ্জাল, অশুচিতাকে।
পহেলা বৈশাখে খোলা হবে হিসাব-নিকাশের নতুন খাতা- যার লোকায়ত নাম হালখাতা। ধূপ ধুনোর সুগন্ধিতে ভরা ঘরে, গোলাপ পানি ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হবে অভ্যাগতদের। রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা মেলে লাল মলাটের হালখাতা নিয়ে নতুন বছরের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা।
তাঁতিবাজার, শাঁখারীপট্টি, লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, চকবাজার এলাকায় তাই এখন এ নিয়ে চলছে বিশেষ আয়োজন। চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বাংলার লোকায়ত পণ্যের পসরা সাজিয়ে প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য উন্নত শির শিরোনামে করা থিমের কাজও শেষ পর্যায়ে। সব মিলিয়ে অতীতকে বিদায় জানানোর দিন, বিদায় জানানোর দিন সকল জরা, জীর্ণ আর মলিনতাকে। বিদায় বাংলাবর্ষ ১৪২৫, স্বাগতম ১৪২৬।
বিস্তারিত ভিডিও রিপোর্টে:








