১৯৯০ সালের নির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন অং সান সুচি। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি সামরিক জান্তা। এবারের নির্বাচনের আগে সরকার সাংবিধানিক এমন পরিবর্তন এনেছিলো যাতে সুচি প্রার্থী হতে না পারেন। তবে তার নেতৃত্বেই তার দলের নিরংকুশ জয়ে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মিয়ানমার।
১৯৪৫ সালের ১৯ জুন মিয়ানমারের ইয়াংগুনে সু চি’র জন্ম। পরিবারের তৃতীয় এই সন্তানটি অহিংস গণতন্ত্রবাদী আন্দোলনকারী হিসেবেই বেশি পরিচিত সারা বিশ্বে।
সাধারণ গৃহবধূ হিসেবেই জীবন শুরু করেছিলেন সু চি। কিন্তু জীবনই একসময় তাকে রাজনীতির পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। ব্রিটিশ নাগরিক মাইকেল অ্যারিসের সঙ্গে সুচির বিয়ে হয় ১৯৭১ সালে। বিয়ের এক বছর পরই প্রথম সন্তান আলেক্সান্ডারের জন্ম। দ্বিতীয় সন্তান কিমের জন্ম ১৯৭৭ সালে। তখন ব্রিটেনেই ছিলেন তিনি। কিন্তু ১৯৮৮ সালে মা গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে দেখতে ছুটে আসেন দেশে। তখন গণতন্ত্রের দাবিতে উত্তাল পুরো মিয়ানমার। আর নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারেননি সু চি। যোগ দিলেন আন্দোলনে। গঠন করলেন এনএলডি-ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি।
পারিবারিক জীবনেরও ইতি সেখানেই। স্বামীর সঙ্গে শেষ দেখা ১৯৯৫ সালে হলেও ছেলেদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তিনি। এর চার বছর পর স্বামী মারা যান। ২০১০ সালে ১২ বছরের মধ্যে প্রথম ছোট ছেলে কিমের সাক্ষাৎ পান। এরপর বিগত ২১ বছরের প্রায় ১৫ বছরই গৃহবন্দী জীবন কাটান অং সান সু চি। স্বামী-সন্তানকে দেখতে একবার দেশ ছাড়লে আর কখনোই তাঁকে দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। তাই দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে বন্দীজীবনকেই বেছে নেন সু চি।
রাজনৈতিক দল গঠন করে মুহূর্তেই সামরিক জান্তার চক্ষুশূলে পরিণত হন সু চি। ১৯৮৯ সালে গৃহবন্দী করা হয় তাকে।
জীবন দিয়ে যেমন দেশের জন্য কাজ করতে চেয়েছেন তেমন তার স্বীকৃতিও পেয়েছেন সারা বিশ্ব থেকে। ১৯৯০ সালে রাফতো পুরস্কার এবং শাখারভ পুরস্কার লাভ করেন সু চি। সামরিকতন্ত্রের বিপক্ষে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য ভারত সরকার তাকে জওহরলাল নেহেরু পুরস্কার প্রদান করে। এবং একই বছর ভেনিজুয়েলার কাছ থেকে ইন্টারন্যাশনাল সিমন বলিভার প্রাইজও গ্রহণ করেন। ২০১২ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে শহীদ বেনজির ভুট্টো অ্যাওয়ার্ড ফর ডেমোক্রেসি প্রদান করেন। ২০০৭ সালে কানাডা সু চি কে তাদের চতুর্থ সম্মানিত নাগরিক নির্বাচন করে। ২০১১ সালে ওয়েলেনবার্গ মেডেল এবং ২০১২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমও গ্রহণ করেন সু চি।







