সুন্দর ফুটবল আর কার্যকরী ফুটবল দুটো আলাদা জিনিস। বক্সের সামনে ড্রিবল করে বল আয়ত্তে নেয়া সুন্দর ফুটবল। আর ড্রিবল না করে সুবিধাজনক পজিশনে থাকা খেলোয়াড়কে বলটা ছেড়ে দেয়া কার্যকরী ফুটবল। আর্জেন্টিনা এই কার্যকরী ফুটবলটা খেলতেই পারেনি।
১-১ গোলের ম্যাচ দেখে খারাপ লাগছে। এই খারাপ লাগা আর্জেন্টিনার সমর্থক বলে নয়, মেসি নামের এক মহাতারকার ওই বিষণ্ণ মুখ দেখে। আগেরদিন রোনালদোর ওই মোহনীয় ফ্রি-কিক দেখে ভালো লেগেছিল। সেই ভালো লাগা পর্তুগালের জন্য নয়, শুধু একজন সিআরসেভেনের জন্য।
আর্জেন্টিনার জন্য হা-হুতাশের আড়ালে ভুলে গেলে চলবে না আইসল্যান্ড ভালো ফুটবল খেলেছে। সবার আগে এটিই আমাদের স্বীকার করা উচিত। রক্ষণাত্মক ফুটবলের দোষ তাদের কোন মুখে দিবেন? তারা যে একটা গোল ফেরত দিয়েছে, সেটা তাহলে কোথা থেকে আসল? মাঝে-মাঝে দেখলাম, আর্জেন্টিনা ২-৬-২ ফর্মেশনে গিয়েও গোল বের করতে পারেনি! প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা একটা দল এতটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় তাদের!
একমাত্র স্ট্রাইকার আগুয়েরো। ওদিকে সেন্টার মিডফিল্ডে মেসি। ডি-মারিয়ারা কাকে বল দিবেন, সেই দোটানা ছিল স্পষ্ট। আগুয়েরোকে দেখলাম বেশ কয়েকবার হা-হুতাশ করতে।
প্রতিপক্ষ রক্ষণে সাত-আটজন রেখে দিবে, দিতেই পারে। ফিফার আইনে বলা নেই এত খেলোয়াড়কে ডিফেন্সে রাখা যাবে না। এমন রক্ষণ ভাঙার কৌশলও ফুটবল দুনিয়ায় আছে। সাম্পাওলির দল সেটা পারল কই।
রক্ষণে ভিড় থাকলে মাঝমাঠে বেশি বেশি পাস খেলে ডিফেন্ডারদের বলের দিকে ডেকে আনতে হয়। আর্জেন্টিনা এই কাজটুকু করেছে শুধু। সঙ্গে বারবার দিক পাল্টানো গতিময় যে ফুটবল দরকার সেটি ছিল না। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে রাশিয়ার খেলা যারা দেখেছেন, তারা একটি বিষয় খেয়াল করে থাকবেন। বক্সের বাইরে দলটি বল পেলেই ক্রস তুলছিল। আর্জেন্টিনা এই কাজটি করলই না। বারবার ভিড় ঠেলে বক্সে ঢুকতে গিয়ে বল নষ্ট হয়েছে। ক্রস বলে জোর না দেয়ার কারণও অবশ্য আছে। সাম্পাওলি জানতেন আইসল্যান্ডের অধিকাংশ খেলোয়াড় লম্বা। এরিয়াল বলের দখলে যাওয়া তাই কঠিন।
ওপেন প্লেতে কাজ না হলে সেটপিসে নজর দিতে হয়। মেসি সেটা দিয়েছিলেন। তবে চাপকে জয় করে অতিমানবীয় হয়ে উঠতে পারেননি। শুরু থেকে তার মুখ দেখে মনে হয়েছে এ এক বেকার যুবক, চাকরির চিন্তায় যিনি হতাশ!
মেসি সেন্টার মিডে থাকায় আর্জেন্টিনাকে দেখলাম বারবার মাঝখান দিয়ে আক্রমণে যেতে। ডি-মারিয়াকে দিয়ে উইংপ্লেটা আরেকটু সচল রাখতে পারতেন সাম্পাওলি। সাম্পাওলি পারতেন আরো অনেক কিছু করতে। নিশ্চয়ই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেসব করবেন।








