সরকারের গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ওষুধ কাজ করছে না। এই অবস্থায় কারাগারে সুচিকিৎসাহীন থাকলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার বিকেলে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই আশংকা প্রকাশ করেন।
ফখরুল বলেন: তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার অসুখ দিন দিন বাড়ছে। আজ তাকে দেখে আমরা আরো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। তার স্বাস্থ্য খারাপ। দ্রুত তার পছন্দের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া জরুরি।
তিনি বলেন: তার বা হাত ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। হাতের ওজন বাড়ছে। বা পায়ে প্রচণ্ড ব্যাথা। হাঁটাচলায় খুব সমস্যা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তিনি একসময় প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন: তার ডান চোখ লাল হয়ে গেছে। আমাদের ডাক্তারা আজ সকালে তার স্বাস্থ্য নিয়ে যে শংকা প্রকাশ করেছেন তা যথার্থ। এই অবস্থায় খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় কোনো অঘটন ঘটে গেলে তার পুরো দায় সরকারকে নিতে হবে।
ফখরুল আরো বলেন: বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। এবং নেতাকর্মীদের সাহসিকতার সাথে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে উপস্থিত হন। প্রতিনিধিদলের অন্য দুই সদস্য হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান। ২০ মিনিট অপেক্ষায় থাকার পর একজন কারা কর্মকর্তা এসে বিএনপি নেতাদের ফটকের ভেতরে নিয়ে যান।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল খালেদার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন ফখরুলসহ এই তিন নেতা। তবে ১৫ মিনিট বসিয়ে রাখার পর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, দেখা হবে না।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসা বিএনপি নেতারা পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দলীয় নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানায়।
শনিবার কারাগারে যাওয়ার আগেও সংবাদ সম্মেলন করে একই দাবি জানান মির্জা ফখরুল।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে থাকা ৭৩ বছর বয়সী খালেদার ঘাড়, হাত, পা মেরুদণ্ডে ব্যাথা এবং চোখের সমস্যায় ভুগছেন বলে তার চিকিৎসকরা বলে আসছেন।
শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা না হলে খালেদা জিয়া অন্ধ ও পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠনের পর বোর্ডের পরামর্শেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।









