ভারতের পার্লামেন্টে সীমান্ত বিল পাস হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিরসনের পাশাপাশি সংঘাত শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে মনে করছেন জয়েন্ট বাউন্ডারি গ্রুপ।
গ্রুপের বাংলাদেশ পক্ষের দলনেতা ড.কামাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন বাংলাদেশের উচিত দ্রুত ছিট মহলগুলোর দলিল বিনিময়সহ বিরোধপূর্ণ সীমানায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির ৪১ বছর পর গত বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভায় পাস হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সীমান্ত বিল। বিলটি অনুসমর্থনের ফলে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতের ১শ’১১ টি এবং ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১ টি ছিটমহল বিনিময়, অপদখলীয় জমি উদ্ধার, ৫ কিলোমিটার সীমান্ত চিহ্নিত নিয়ে যে সমস্যা ছিলো তা সমাধানের পথে চূড়ান্ত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ।
সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে জয়েন্ট বাউন্ডারী গ্রুপের দলনেতা বর্তমান বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটলো।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত করেছিলেন যেসব অতিরিক্ত জমি বা ছিটমহল আমাদের দেশে আছে তার জন্য আমাদেরকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। এটা তার একটা বিশাল সাফল্য। সেটার বাস্তবায়ন হচ্ছে এই চুক্তির একটা দিক। আর একটি দিক হলো আমাদের দেশে এবং ঐ দেশের ছিটমহলের প্রায় ৫১ হাজার ৪৫৯ মানুষ, সবাই পরিচয়বিহীন কাটিয়েছে এতগুলো বছর। তাদের না স্কুল ছিলো, না কলেজ ছিলো, না রাস্তাঘাট ছিলো। কোনো সুযোগ সুবিধাই তারা পায়নি। এখন তাদের সেই ভোগান্তির নিরসন হবে।
‘দীর্ঘদিন নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকা ৫১ হাজার মানুষের জন্য সরকারের উচিত দ্রুত ভারতের লোকসভায় পাস হওয়া মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির বাস্তবায়ন করা।’
তিনি বলেন, আমাদের ১শ’১১ টি ছিটমহলের দলিলপত্র সব তদের কাছে ছিলো। এখন সেসব আবার ভারত আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে। তারা দাগ, খতিয়ান সম্বলিত ম্যাপ আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে। একই ভাবে আমাদের কাছে থাকা দলিলপত্রও হস্তান্তর করবো। এটা আনুষ্ঠানিকভাবেই সম্পন্ন করা হবে। অপদখলীয় জমিগুলোও এরই মধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। সেগুলোর স্ট্রিট ম্যাপগুলোও স্বাক্ষর হতে পারে।
চুক্তির পুরোপুরি বাস্তবায়নে দীর্ঘ দিনের উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটবে খুব দ্রুতই এমনটাই আশা সকলের।







