আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর অনানুষ্ঠিক প্রচারণা দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সঞ্চার করেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরে হবে বলে ধারণা করা যায়। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তার বিভিন্ন বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের কথা বলছেন। গত ৩০ জানুয়ারি মঙ্গলবার হজরত শাহজালাল এবং শাহপরানের মাজার জিয়ারত ছাড়াও সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। এই জনসভার মধ্য দিয়ে শুরু হলো আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের প্রচারণা। এ সময় ভোটারদের শপথ করিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই বিশ্ব দরবারে বাঙালি মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচনে আপনাদের কাছে আমরা নৌকা মার্কায় ভোট চাই। নৌকা স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছে, উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা ওয়াদা করেন, হাত তুলে ওয়াদা করেন যে, আপনারা নৌকায় ভোট দিবেন। বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নানান উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশ পুরস্কৃত হয়, বিএনপি-জামায়াত লুটেরা, খুনি ও অগ্নিসন্ত্রাসীদের দল, তারা জানে শুধু ধ্বংস করতে। তারা ক্ষমতায় আসলে দেশ তিরস্কৃত হয়, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। বিএনপি আমলে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়, বাংলা ভাই সৃষ্টি হয়। একসঙ্গে সারাদেশে বোমা হামলা হয়। পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গত ১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেন। তিনি সেখানে হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এরশাদ গত নির্বাচনে নানা ঘটনার জন্ম দিলেও এবার আটঘাট বেঁধেই নেমেছেন। ইতিমধ্যে ৫৮টি ইসলামিক দল নিয়ে একটি জোট গড়েছে জাতীয় পার্টি। এরশাদ আগামী নির্বাচন নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত জাতীয় জোট নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিছুদিনের মধ্যে সাতটি বিভাগে যাব। বাংলােদেশের গণতন্ত্র নিয়ে কিছু বলতে চাই না সেটি জনগণই ভালো জানে। এরপরও আমার কাছে মনে হয়, এবারের নির্বাচন গতবারের নির্বাচনের মতো হবে না। কারণ সমস্ত দেশের চোখ এখন বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সোমবারের সিলেট সফরকে মূলত রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন খালেদা জিয়া। সেখানে হযরত শাহজালাল এবং হযরত শাহপরানের মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এই সফর নির্বাচনী সফর কি না রোববার বিএনপির মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তিনি এর সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা কিংবা এরশাদ; তাদের সফর তাদের মতো। দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধান সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বা করছেন। আপাত দৃষ্টিতে এটাই দৃশ্যমান। স্থবির রাজনৈতিক অবস্থা নির্বাচনের কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ আনছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে। তাদের বক্তব্যের মধ্যে ফুটে উঠছে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন অঙ্গীকার। সকলেই ভোটারদের মন জয় করতে চাইছে। আমরাও একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা রাখি।









