ওমরান দাকনিশ (৫) যেনো এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় শিশুদের অবর্ণনীয় দুর্দশার প্রতীক। গতবছরেই ভূমধ্যসাগর তীরে নিথর পড়ে থাকা আয়লানের কুর্দির (৩) দেহটিও জানান দিচ্ছিলো ভয়াবহতার প্রকটরূপ। সাম্প্রতিক ওমরানের ভিডিওটিও তেমনি সেখানে বিপর্যস্ত শৈশবের বার্তা দিলো।
বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তুপ থেকে ৫ বছর বয়সী ওমরানকে উদ্ধারের পর তার ছোট্ট রক্তাক্ত দেহ আর হতবিহ্বল চেহারা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব বিবেককে।
সিরিয়ার শিশুদের সামনে যেনো আয়লান বা ওমরানের মতো করুণ পরিণতির একটিকে বরণ করে নেয়া ছাড়া উপায় নেই। সেখানে থাকলে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সম্মুখিন আর পালাতে চাইলে নিশ্চিত মৃত্যু- সুদানের কার্টুনিস্ট খালিদ আলবাইহের কার্টুন দেখায় সেখানকার শিশুদের অন্ধকার ভবিষ্যতই যেনো নির্ধারিত।
তবে ৫ বছরের দীর্ঘ এই ‘অন্তহিন’ যুদ্ধ অবসানের ক্ষিণ আশার বাহক এখন ওমরান।

পূর্ব আলেপ্পোতে রাশিয়ার বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তুপ থেকে ওমরানকে উদ্ধার পরবর্তী ছবি ও ভিডিওটি ছিলো বৃহস্পতিবার বিশ্বমিডিয়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। হোয়াইট হেলমেটস নামের স্বেচ্ছাসেবক দল তাকে উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে বসালে তার অভিব্যক্তিতেই ছিলো ভাবলেষহীনতা। জাগতিক নির্মমতায় যেনো সে এখন আর তেমন বিস্মিত হয় না।
অবশ্য পরে ওমরানের পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যায় এবং তারা আবার একত্রিত হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম টুইটারে এই সংক্রান্ত অসংখ্য টুইটে যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানানো হয়।
রক্তপাত বন্ধের জন্য বিশ্ব শক্তির মন গলাতে ওমরানের গল্পটিই কি যথেষ্ট নয়। কার্টুনিস্টদের এমন কিছু হৃদয় বিদারক ছবি বেশ আলোড়ন তুলেছে। সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধে ৪ লাখ মানুষকে নিহত এবং ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
গত বছর ভূমধ্যসাগরে পাড়ি দিতে গিয়ে মা এবং ভাইসহ তিন বছর বয়সী আয়লান কুর্দি ডুবে মারা যায়। পরে সাগর তীরে ভেসে উঠা ৩ বছর বয়সী আয়লানের দেহটি তুমুল আলোড়ন তুলেছিলো।








