১৯৯০ সালের শুরুর দিকে সাহাবুদ্দীন আহমদ যখন প্রধান বিচারপতি হন তখন অন্য আর যেকোনও প্রধান বিচারতি হওয়ার মত সেটাও একটি বিষয় ছিল। কিন্তু ১৯৯০ সালের শেষ দিকে এসে সাধারণের কাছে এ নামটি সারা দেশে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়লো তার পিছনের একটি গল্প আছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সেই ঘটনা শোনালেন চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক এবং চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান।
তিনি বলেন: তখনকার সময়ে সরকার প্রধান ছিলেন এইচ এম এরশাদ এবং এ সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ , বিএনপি এবং সর্বদলীয় ছাত্র সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে একটি দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
এবং ১৯৯০ সালের শেষের দিকে এসে এ আন্দোলনটি একটি ছাত্র গণঅভ্যুথানের রূপ লাভ করে। আর ওই ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে রাজি হয়েছিলেন।
তবে এরশাদ পদ ছাড়তে রাজি হলেও পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন এর একটি প্রশ্ন থেকেই গিয়েছিল। কারণ প্রত্যেকটি দলেরই দাবি ছিল একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা এবং সর্ব সম্মতিক্রমে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বচন করা যার অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বরাবরের মতোই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি পওয়া সহজ বিষয় ছিল না যেমন তখনকার সময়েও ঠিক এখনকার সময়েও।
জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন: তখন সাহাবুদ্দীন আহমদ একজন সেইরকম ব্যক্তিত্ববান মানুষ ছিলেন। তার সম্পর্কে সব দলের কাছে এবং সব দলের নেতৃত্বের কাছে এমন একটি ধারণা ছিল এই মানুষটি হাতে যদি দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন।
সেই প্রেক্ষিতে ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর তিনি প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে এইচ এম এরশাদ পদত্যাগ করেন এবং ওই সময় উপ-রাষ্ট্রপতির পদে থাকা মওদুদ আহমদ ধারাবাহিকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সাহাবুদ্দীন আহমদেকে উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ পাঠ করান এবং তারপরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাহাবুদ্দীন আহমদ।
সাহাবুদ্দীন আহমদের অধীনে ১০ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ ছিল। যারা ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেন এবং ওই নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হয়।
তখনকার সময়ে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটি বড় বিষয় ছিল দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠা। ওই মুহূর্তে বিএনপি ছিল সরকার ব্যবস্থায় এবং তারাও সন্দিহান ছিল সদসদীয় সরকার ব্যবস্থায় থাকবে নাকি রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় থাকবে। এবং শেষ পর্যন্ত সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
তবে সাহাবুদ্দীন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন ওনার একটি শর্ত ছিল যে, তার যখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষ হবে তখন তাকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে পুনর্বহাল করতে হবে। এরই ফলস্বরূপ তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বে ফিরে গিয়েছিলেন।
এরপরই যে বিষয়টি ঘটল ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির পদটি খালি হয়ে যায় এবং তখন আবার প্রশ্ন উঠলো: কে রাষ্ট্রপতি হবেন?
তখন যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এখন যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি চাচ্ছিলেন রাষ্ট্রপতি পদটির কোনও নির্বাহী ক্ষমতা না থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদটি এমন একজন গ্রহণ করবেন যার ইমেজ সারাদেশের মানুষের কাছে এবং সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য।
জাহিদ নেওয়াজ খান জানান: তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব করেন সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। তবে সাহাবুদ্দীন আহমদ এ প্রস্তবে রাজি ছিলেন না, কারণ তিনি বংলাদেশের মত রাজনৈতিক গোলমেলে অবস্থায় এমন জায়গায় আসতে চাননি।
তখন শেখ হাসিনা এক প্রকার প্রছন্ন হুমকি দিয়ে বলেছিলেন আপনি যদি রাষ্ট্রপতি না হন তাহলে আপনার বাড়ির সামনে গিয়ে অনশন করব।
মূলত এরপরই সাহাবুদ্দীন আহমদ দায়িত্ব গ্রহণে রাজি হন এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।








